সৈয়দপুরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদ আনন্দে ভরিয়ে দিল বন্ধুসভার মানবিক উদ্যোগ
সৈয়দপুরে শিশুদের ঈদ উপহার দিল বন্ধুসভা

সৈয়দপুরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ঈদের বিশেষ উপহার

ঈদ উৎসব মানে আনন্দ, ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার মেলবন্ধন। কিন্তু সমাজের প্রতিটি শিশু এই আনন্দ সমানভাবে উপভোগ করতে পারে না। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে প্রথম আলো বন্ধুসভা। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদের রঙিন স্বপ্নে নতুন মাত্রা যোগ করতে তারা আয়োজন করেছে বিশেষ কর্মসূচি।

সহমর্মিতার ঈদ উদ্যাপন

১৩ মার্চ সকালে ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুর পাইলট হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বন্ধুসভার 'সহমর্মিতার ঈদ' কর্মসূচি। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৬০টি সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে ঈদের নতুন জামা, ঈদসালামি ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী উপহার দেওয়া হয়। শিশুদের হাতে নতুন পোশাকের পাশাপাশি তুলে দেওয়া হয় সেমাই, চিনি, গুঁড়া দুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য।

সকালে স্কুল মাঠে শিশুরা জড়ো হলে পুরো পরিবেশ উৎসবমুখর মিলনমেলায় পরিণত হয়। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল ঈদসালামি বিতরণ। সালামির টাকা হাতে পেয়ে শিশুদের চোখে-মুখে যে উচ্ছ্বাস ও আনন্দ ফুটে উঠেছিল, তা ছিল সত্যিই দেখার মতো। এই দৃশ্য উপস্থিত সকলের হৃদয় স্পর্শ করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপস্থিত ছিলেন যারা

এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর বন্ধুসভার উপদেষ্টা আজহারুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক শিউলী বেগম, প্রধান শিক্ষক হাফিজা খাতুন, নারী উদ্যোক্তা আহমেদা ইয়াসমিন, শিক্ষক লিপিকা লিপি, হোসনে আরা লিপি, প্রথম আলোর সৈয়দপুর প্রতিনিধি এম আর আলম প্রমুখ।

বন্ধুসভার সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মমতাজ বেগম, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব, বন্ধু বিলকিস আক্তার, দীপ্তি সিং, এলিজাবেথ, আসাদুজ্জামান, তাপস রায়, মো. ইমরান, সাধনা রায়, শামীম আল সাজিদ, রাইম চৌধুরী, রাশেদ, আল আমিন, রিয়াজুল ইসলাম, লাবিব, ফাতেমাসহ আরও অনেকে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশেষ আলোচনা সভা

উপহার বিতরণ শেষে বন্ধুসভার সদস্যরা মাঠে গোল হয়ে বসে বিশেষ আলোচনা সভায় অংশ নেন। এই সভায় বন্ধুরা বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কর্মকাণ্ডের ধারা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

এই উদ্যোগ শুধু উপহার বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছে সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার এক জীবন্ত উদাহরণ। শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর এই প্রচেষ্টা স্থানীয় সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন অংশগ্রহণকারীরা।