ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক ১৯ মার্চ
ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে ১৯ মার্চ বৈঠক

ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক ১৯ মার্চ

পবিত্র ঈদুল ফিতর কবে হবে তা নিয়ে সারা বাংলাদেশে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা চলছে। এই প্রশ্নের চূড়ান্ত জবাব মিলবে আগামী ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। সেদিন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠক থেকেই ঈদুল ফিতরের সঠিক তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে, যা দেশবাসীর জন্য অপেক্ষার অবসান ঘটাবে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস ও সম্ভাব্য তারিখ

আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, এ বছর রমজান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ইমেরাতস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ১৮ মার্চ নতুন চাঁদ দেখার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে ১৯ মার্চ ভোরে নতুন চাঁদের জন্ম হবে এবং সেদিন সূর্যাস্তের পর প্রায় ২৯ মিনিট ধরে চাঁদ দিগন্তের ওপরে অবস্থান করবে। আকাশ পরিষ্কার ও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে সেই সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের নিয়ম অনুসারে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ২০ মার্চ শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। বাংলাদেশে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর একদিন পর ঈদ পালিত হয়। সেই হিসেবে যদি সৌদি আরবে ২০ মার্চ ঈদ হয়, তাহলে বাংলাদেশে ২১ মার্চ শনিবার ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারি প্রস্তুতি ও ছুটির ক্যালেন্ডার

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সম্ভাব্য ঈদের তারিখ ২১ মার্চ ধরে নিয়ে ছুটির ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নতুন পূর্বাভাস সরকারের এই পরিকল্পনার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দেখা যাচ্ছে। তবে ইসলামী শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই বৈঠকের ফলাফলের ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।

সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুসারে, ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাধারণ ছুটি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সময়ে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকতে পারে, যা ঈদের আনন্দ ও পরিবারিক মিলনকে আরও সুগম করবে।

সর্বোপরি, জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তই ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করবে। দেশবাসী সেদিনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, যাতে তারা পবিত্র এই উৎসবটি সঠিক সময়ে উদযাপন করতে পারে।