কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভার 'সহমর্মিতার ঈদ': নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ
কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভার 'সহমর্মিতার ঈদ' কর্মসূচি

কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভার 'সহমর্মিতার ঈদ': নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেওয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভা। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে 'সহমর্মিতার ঈদ' কর্মসূচির অংশ হিসেবে সদর উপজেলার খিলপাড়া এলাকায় নদীভাঙনে আশ্রিত ১০টি পরিবারের ৩৩ জন সদস্যের মাঝে ঈদসামগ্রী ও শিশুদের জন্য নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগে অংশ নেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংগঠনের সদস্যরা, যারা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে চান।

নদীভাঙনে মানবেতর জীবন যাপন

রহিম বাদশা (৬৫) জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বাসিন্দা। নদীভাঙনে তাঁর ভিটেমাটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। কোথাও আশ্রয় না পেয়ে স্ত্রীসহ পরিবারের আরও তিন সদস্যকে নিয়ে তিনি কিশোরগঞ্জ সদরের খিলপাড়া এলাকায় অস্থায়ী ছাউনি বেঁধে বসবাস করছেন। একইভাবে চাঁদপুরের মতলব উপজেলার বাসিন্দা সাদেক আলী (৬০) নদীভাঙনের শিকার হয়ে প্রায় এক বছর ধরে পরিবার সদস্যদের নিয়ে একই এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের মতো ১০টি পরিবার এক বছর ধরে এখানে মানবেতর জীবন যাপন করছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি।

ঈদ উপহার বিতরণ ও আনন্দের মুহূর্ত

১৪ মার্চ বেলা তিনটার দিকে কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভার উদ্যোগে এসব পরিবারের হাতে ঈদ উপহার তুলে দেওয়া হয়। প্রতিটি পরিবারের জন্য দেওয়া হয় পোলাওয়ের চাল, তেল, সেমাই, চিনি, দুধ, নুডলস, সাবান, চালের গুঁড়াসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী। পাশাপাশি শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় রঙিন নতুন পোশাক। পরে নদীভাঙনে ভুক্তভোগীসহ বন্ধুসভার সদস্যরা একসঙ্গে ইফতার করেন, যা সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি করে।

নতুন জামা পেয়ে শিশুদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি। ১০ বছর বয়সী অনন্যা নতুন পোশাক হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে, 'আমি এটা ঈদের দিন পরমু। আমার ছোট ভাইও নতুন জামা পাইছে। এবারের ঈদটা খুব ভালো কাটব।' স্থানীয় বাসিন্দা বিউটি বেগম (৪০) বলেন, 'ঈদের বাজার করা আর বাচ্চাদের জামা কেনা আমাদের জন্য খুব কষ্টের। আপনাদের দেওয়া এই উপহার পেয়ে আমরা অনেক খুশি।'

বন্ধুসভার সদস্যদের প্রতিক্রিয়া

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বন্ধুসভার সদস্যরা জানান, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতেই তাঁদের এই উদ্যোগ। সভাপতি নুসরাত জাহান বলেন, 'বন্ধুসভার সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়নে আমরা এ বছরের 'সহমর্মিতার ঈদ' আয়োজন করেছি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই কর্মসূচি সম্ভব হয়েছে।' সাধারণ সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, 'সমাজের প্রতি আমাদের একটা দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই প্রতি ঈদে আমরা চেষ্টা করি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে।'

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি তাফসিলুল আজিজ, বন্ধুসভার উপদেষ্টা মোস্তাফিজ মারুফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফাহিম ইশরাক, অর্থ সম্পাদক রফিক সুবহানি এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক তাফহিম বিন আজিজসহ অন্য বন্ধুরা। এই উদ্যোগটি কিশোরগঞ্জে সামাজিক সংহতি ও মানবিক সহায়তার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।