ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাতৃভাষা দিবসে আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন
মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্কালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বিশেষ আবৃত্তি অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে। 'একুশ বাঁচে অবিরত' শীর্ষক এই অনুষ্ঠানটি শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল ১১টায় তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সহকারী পরিচালক উত্তম কুমার দাস।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও সঞ্চালক
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের অভিভাবক সদস্য এস. সি. তাপসী রায়। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন অন্যতম সংগঠক আনিসুর রহমান। এই আয়োজনের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
একক আবৃত্তি পরিবেশনকারী
অনুষ্ঠানে একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন উত্তম কুমার দাস, সুজন সরকার, রেজা এ. রাব্বি, আনিসুর রহমান, ফারদিয়া আশরাফি নাওমী, তাসফিয়া ইসলাম প্রমি, ফাহিমা সুলতানা, আকলিমা আকতার, সালমানুর রহমান দুর্জয়, অর্পা মিত্র ভৌমিক, আপন বিশ্বাস, ফারিহা আফরোজ জেসি, অর্পণ মিত্র ভৌমিক, ঝুম বিশ্বাস, সাবিহা বিনতে শামীম ও সামিহা বিনতে শামীম। তাদের আবৃত্তির মাধ্যমে বাংলা ভাষার শক্তি ও সৌন্দর্য উপস্থাপন করা হয়।
বৃন্দ আবৃত্তি ও সমাপ্তি
একক আবৃত্তি শেষে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কবি অনিল সরকারের লেখা কবিতা 'একুশ বাঁচে অবিরত' বৃন্দ আবৃত্তির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। এই অংশটি অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্যকে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরে।
সংগঠনের প্রতিনিধিদের বক্তব্য
উত্তম কুমার দাস বলেন, 'একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে প্রতিবছর আমরা ভাষা শহীদ ও ভাষা সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা জানাই। যে ভাষার জন্য বাঙালির সন্তানেরা রক্ত দিয়েছে, সেই বাংলার প্রমিত চর্চা করতেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।' তার এই বক্তব্য অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে তোলে।
সুজন সরকার বলেন, 'মহান ভাষা আন্দোলন, একুশে ফেব্রুয়ারি ও বাংলা ভাষার মাহাত্ম্য নিয়ে অসংখ্য কবিতা রচিত হয়েছে। আমরা সেই কবিতাগুলো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে নানা আয়োজন করি। একুশের আবৃত্তি তারই অংশ।' তার মন্তব্যে ভাষা সংরক্ষণের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে বাংলা ভাষার চর্চা ও প্রচারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হয়।
