গুলশান সোসাইটির 'নাইট বাজার ২০২৬' শুরু: কমিউনিটি বন্ধন ও স্থানীয় বাণিজ্যের মেলবন্ধন
গুলশান এলাকার কল্যাণ সংস্থা গুলশান সোসাইটির আয়োজনে 'নাইট বাজার ২০২৬' আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রাজধানীর শাহীদ ড. ফজলে রবি পার্কে বৃহস্পতিবার রাতে এই তিন দিনব্যাপী বাজারের উদ্বোধন করা হয়। একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাণিজ্যকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে এই বাজারটি শনিবার ভোর পর্যন্ত চলবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক ও গুলশান সোসাইটির সভাপতির উপস্থিতি
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান এবং গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাত বৃহস্পতিবার রাতে ফিতা কেটে এই অস্থায়ী বাজারটির উদ্বোধন করেন। এই অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান গুলশান সোসাইটির এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের ইভেন্টগুলো কমিউনিটির মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি শহরের অন্যান্য এলাকার সমাজ সংস্থাগুলোতেও একই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এতে সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি মনে করেন। প্রশাসক আরও বলেন, অন্যান্য সংগঠনগুলো যেন এই মডেলটি অনুসরণ করে এবং তিনি শহর কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এই ধরনের কমিউনিটি গঠনমূলক প্রচেষ্টার জন্য পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।
গুলশান সোসাইটির সভাপতির বক্তব্য: সামাজিক দূরত্ব কমাতে নাইট বাজার
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাত। তিনি বলেন, এই বাজারটি সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি সবাইকে একত্রিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নাইট বাজারের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো প্রতিবেশীদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে কমিউনিটির মধ্যে ঐক্যের অনুভূতি গড়ে তোলা।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের অংশগ্রহণ ও কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) পিএলসি এবারের ইভেন্টের শিরোনাম স্পনসর হিসেবে অংশগ্রহণ করছে। ব্যাংকের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে এমটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেন, তারা কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগের অংশীদার হয়েছেন।
বাজারের বৈশিষ্ট্য ও সময়সূচি
এই বাজারে মোট ৫৪টি স্টল রয়েছে, যা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছে। স্থানীয় ব্র্যান্ড, বৈচিত্র্যময় খাদ্য সামগ্রী এবং লাইফস্টাইল পণ্য সহ বিস্তৃত পরিসরের সামগ্রী এখানে পাওয়া যাচ্ছে। বাজারটি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এই উদ্যোগটি স্থানীয় বাণিজ্যকে প্রসারিত করার পাশাপাশি সামাজিক সংহতিকে শক্তিশালী করার একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গুলশান সোসাইটির এই প্রচেষ্টা শহরের অন্যান্য এলাকার জন্য একটি অনুপ্রেরণা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
