এয়ারফোর্স বেজক্যাম্পে রমজানের বিশেষ ইফতার ও সাহরি আয়োজন
রমজান মাসে এয়ারফোর্স বেজক্যাম্পে ইফতার ও সাহরির বিশেষ আয়োজন শুরু হয়েছে, যা শহুরে ব্যস্ততার মাঝে প্রকৃতির সান্নিধ্যে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে রোজার আনন্দ উপভোগের একটি অনন্য সুযোগ করে দিচ্ছে। এই আয়োজন দেখতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, খোলা আকাশের নিচে উন্মুক্ত পরিবেশে ইফতারের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে অনেকেই পরিবারের ছোট সদস্যদের নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। সেখানে সরাসরি তৈরি হচ্ছে জিলাপি, বেগুনি ও পেঁয়াজুর মতো ঐতিহ্যবাহী ইফতারি আইটেম, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে উৎসাহের সৃষ্টি করছে।
ইফতার ও সাহরির মূল্য ও সুবিধা
এয়ারফোর্স বেজক্যাম্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামজিদ সিদ্দিক জানান, এই আয়োজনে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। রমজান মাসে এখানে ইফতারির বুফের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ২৯৯ টাকা, আর সাহরির জন্য ১ হাজার ৩৯৯ টাকা। করপোরেট ইফতারি বক্স পাওয়া যাবে ৯৯৯ টাকা থেকে শুরু করে। এই ক্যাম্পে একসঙ্গে ৩০০ থেকে ৩৫০ অতিথিকে আপ্যায়নের ব্যবস্থা রয়েছে, যা পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব বা অফিসের করপোরেট মিটিংয়ের জন্য আদর্শ স্থান হিসেবে কাজ করে।
সুবিধার মধ্যে রয়েছে পার্কিং সুবিধা এবং নামাজের জন্য আলাদা জায়গা। তবে এখানে আসতে হলে আগে থেকে বুকিং দেওয়া বাধ্যতামূলক। ক্যাম্পটি রোজার সময় দুপুর ১২টা থেকেই খোলা থাকে, যাতে দর্শনার্থীরা ইফতারের আগে বা পরে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন।
বিনোদন ও অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রম
এয়ারফোর্স বেজক্যাম্প শুধু খাওয়া-দাওয়ার জায়গা নয়; বরং এখানে নানাধরনের বিনোদন ও অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রমের ব্যবস্থা রয়েছে। ইফতারের পর অতিথিরা লুডু, দাবা, সাউন্ড হিলিং, কুশিকাটার কাজ ও অরিগ্যামির মতো মানসিক প্রশান্তিদায়ক কাজে অংশ নিতে পারেন। তামজিদ সিদ্দিকের মতে, ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে আবার প্রকৃতির সঙ্গে সংযুক্ত করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করা।
এখানে দেয়াল বেয়ে ওপরে ওঠা, জিপলাইন, তিরন্দাজি, কাদামাটির রাস্তায় ট্রেইল বা বিভিন্ন বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মতো অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রম উপলব্ধ। শিশুদের জন্য রয়েছে শিল্পচর্চার ক্লাস, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি-গণিতভিত্তিক কার্যক্রম, আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ ও লেগো জোন, যা পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে।
দর্শনার্থীদের প্রতিক্রিয়া
উত্তরা থেকে সপরিবার ইফতার করতে আসা তাওয়াফ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক দিন ধরেই এই আয়োজন দেখছিলাম। আজ সুযোগ হলো। খোলা আকাশের নিচে ইফতারির সঙ্গে প্রকৃতিপাঠ ও বিনোদন অন্য রকম এক অভিজ্ঞতা দিচ্ছে।’ তাঁর মতো অনেক দর্শনার্থীই এই পরিবেশকে শহুরে জীবনের ব্যস্ততা থেকে মুক্তির একটি মাধ্যম হিসেবে দেখছেন।
সাহরির সময় শুরু হয় রাত ১১টা থেকে, যা দীর্ঘ সময় ধরে ক্যাম্পের কার্যক্রম চালু রাখে। তামজিদ সিদ্দিক যোগ করেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে এক ছাদের নিচে নানা ধরনের কার্যক্রম করা যায়, যা মানুষকে শুধু খাওয়া-দাওয়ার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু শিখতে ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাতে উদ্বুদ্ধ করে।’
সামগ্রিকভাবে, এয়ারফোর্স বেজক্যাম্প রমজান মাসে একটি সৃজনশীল ও স্বাস্থ্যকর গন্তব্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যেখানে ইফতার ও সাহরির পাশাপাশি বিনোদন ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শহুরে জীবনযাপনে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব হচ্ছে।
