কুমিল্লায় বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মরণে অনন্য গোলাপ প্রদর্শনী, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা
কুমিল্লায় গোলাপ প্রদর্শনী, মুক্তিযোদ্ধার স্মরণে আয়োজন

কুমিল্লায় বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মরণে অনন্য গোলাপ প্রদর্শনী

কুমিল্লা নগরের উত্তর চর্থা এলাকায় 'মোস্তফা কামাল ফুলু' স্মারক গোলাপ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা নানা রং ও প্রজাতির গোলাপ দিয়ে সাজানো হয়েছিল। শনিবার নগরের উত্তর চর্থা এলাকার 'মা' বাসভবনে আয়োজিত এ প্রদর্শনী মুহূর্তেই মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের, শহরের ফুলপ্রেমী ও উদ্যানপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় প্রাঙ্গণ।

প্রদর্শনীর উদ্বোধন ও উদ্দেশ্য

প্রদর্শনীতে অংশ নিতে সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসেন অংশগ্রহণকারী ও দর্শনার্থীরা। বেলা ১১টায় ফিতা কেটে উদ্বোধন করা হয় অনুষ্ঠানের, যেখানে সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লিবারেল আর্টস অনুষদের ডিন অধ্যাপক আলী হোসেন চৌধুরী বলেন, 'ফুল মানুষের মনকে কোমল করে এবং সৌন্দর্যচর্চা ইতিবাচক চিন্তার প্রসারে ভূমিকা রাখে। এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃতি ও সৃজনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করবে।'

ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল জহির (স্বপন) সভাপতিত্ব করেন এবং জানান, পুষ্পপ্রেমী প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামালের স্মৃতিকে ধারণ করতেই এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি শহরে ফুলচর্চা ও নান্দনিক সংস্কৃতি বিকাশে এটি ভূমিকা রাখবে, ভবিষ্যতেও এ আয়োজন নিয়মিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বৈচিত্র্যময় গোলাপের সমাহার

প্রদর্শনীতে অর্ধশতাধিক গোলাপপ্রেমী নিজেদের বাগানে উৎপাদিত নানা জাতের গোলাপ নিয়ে অংশ নেন।

  • প্যারাডাইস
  • এব্রাকাডেব্রা
  • হোয়াইট অ্যাভালেন্স
  • জুমেলিয়া
  • ব্ল্যাক ডিলাইট
  • কলকাতা–৩০০
  • ইরানি গোলাপ
সহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের গোলাপ স্থান পায় প্রদর্শনীতে। প্রতিটি স্টলের সামনে গোলাপের নাম ও বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়, যা দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়ায়।

অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা

অংশগ্রহণকারী তানজিশা মাহমুদ (মীম) বলেন, 'ফেসবুকে খবর দেখে এসেছি, এমন আয়োজন আগে দেখিনি।' গৃহিণী সেলিনা বেগম জানান, নিজের বাগানের তিনটি গোলাপ নিয়ে অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে। ১৭ প্রজাতির গোলাপ নিয়ে আসা অনামিকা দেব বলেন, 'গোলাপের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমার বাগান করা; এই প্রদর্শনী সেই ভালোবাসারই একটি মঞ্চ।'

সমাপ্তি ও পুরস্কার বিতরণ

বেলা একটার দিকে প্রদর্শনীর সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের সনদ ও সম্মাননা দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম হন অনামিকা দেব, যিনি ১০ হাজার টাকা সম্মানী পান। দ্বিতীয় হন ফারজানা চৌধুরী (৭ হাজার টাকা) এবং তৃতীয় হন সেলিনা বেগম (৫ হাজার টাকা)। অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ও লালমাই সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শফিকুর রহমানসহ স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

এ আয়োজন কুমিল্লায় ফুলচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের আশা জাগিয়েছে।