প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ, আজ শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা
‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) শুরু হতে যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার আগমন উপলক্ষে গৃহীত বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মেট্রোরেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মেট্রোরেল স্টেশনে ২ ঘণ্টা চলাচল বন্ধ
মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ট্রেন চলাচল ও যাত্রী ওঠানামা দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই সময়ে কোনো যাত্রী স্টেশনে প্রবেশ বা বের হতে পারবেন না এবং কোনো ট্রেনও থামবে না। তবে মেট্রোরেলের অন্যান্য স্টেশনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে ডিএমটিসিএলকে দেওয়া এক চিঠিতে এই বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছিল। চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত বইমেলার উদ্বোধনী দিনে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য এই ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বইমেলার বিস্তারিত তথ্য
এবারের অমর একুশে বইমেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় মোট ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,০১৮টি। গত বছরের তুলনায় এ বছর অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কিছুটা কমলেও মেলার বিন্যাস ও আয়োজনে নতুনত্ব আনা হয়েছে।
- লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ৮৭টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
- শিশু চত্বরে ৬৩টি প্রতিষ্ঠানের ১০৭টি ইউনিট স্থান পেয়েছে।
যাতায়াত ও সুবিধা ব্যবস্থা
মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এবার বাহিরপথ কিছুটা সরিয়ে মন্দির গেটের কাছে নেওয়া হয়েছে। বইমেলা দর্শনার্থীদের জন্য টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন সংলগ্ন এলাকায় চারটি প্রবেশ ও বাহিরপথ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া খাবারের স্টলগুলো সুবিন্যস্তভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে।
মেলা প্রাঙ্গণে নামাজের স্থান ও ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় সকল নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মুসল্লিদের জন্য তারাবি নামাজের বিশেষ ব্যবস্থাও রেখেছে মেলা কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর বিকেল থেকেই সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য মেলার দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
এই বইমেলা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের শিক্ষা ও সৃজনশীলতা বিকাশে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
