চাঁপাইনবাবগঞ্জে শহীদ দিবসে ব্যানারে 'জুলাই শহীদ' ছবি, সমালোচনার ঝড়
চাঁপাইনবাবগঞ্জে শহীদ দিবসে 'জুলাই শহীদ' ছবি, সমালোচনা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শহীদ দিবস পালনে ব্যানার বিতর্ক: 'জুলাই শহীদ' ছবিতে সমালোচনার ঝড়

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। তবে শহীদ মিনারের প্রবেশমুখে টাঙানো ব্যানারে 'জুলাই শহীদ' আবু সাঈদের ছবি ব্যবহারের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রশাসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা ও প্রতিবাদ চলছে, যেখানে অনেকেই এটিকে ভাষা শহীদদের প্রতি অসম্মান ও ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান ও ব্যানার বিতর্ক

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ চত্বরে অবস্থিত শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদ, পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের গেটে জেলা প্রশাসনের টাঙানো ব্যানারে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, শহীদ দিবসের ব্যানারে তাদের ছবি না দিয়ে অন্য প্রসঙ্গের শহীদের ছবি ব্যবহার করা মানানসই নয়। এটি ভাষা শহীদদের প্রতি অসম্মান ও ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যম ও ভাষাসৈনিক পরিবারের প্রতিক্রিয়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফায়জার রহমান কনক লিখেছেন, "আমি একজন ভাষাসৈনিক পরিবারের সন্তান। আজ যদি এই প্রতিবাদ না জানাই, তবে আমার অস্তিত্ব অস্বীকার করা হবে। বাংলা ভাষার অর্জন কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনীয় নয়। ভাষার জন্য জীবন দেওয়ার এমন নজির আর নেই।" মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ভাষাসৈনিক (একুশে পদকপ্রাপ্ত) ডা. আ. আ. ম. মেসবাহুল হক (বাচ্চু ডাক্তার)-এর ছেলে মেসবাহুল সাকের মন্তব্য করেন, শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারের প্রবেশমুখে ভাষা শহীদদের ছবি না দিয়ে জুলাই শহীদের ছবি ব্যবহার করা ইতিহাস বিকৃতির ঘৃণ্য চেষ্টা।

জেলা প্রশাসকের ব্যাখ্যা ও অনুষ্ঠানের বিবরণ

এদিকে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে ২১ ফেব্রুয়ারি আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদ, যেখানে অন্যান্য কর্মকর্তারা বক্তব্য ও শিশুরা আবৃত্তি করেন। তবে জেলা প্রশাসক উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য দেননি বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের দাবি, ২১ ফেব্রুয়ারির সঙ্গে '৩৬শে জুলাই' প্রতীকীভাবে উপস্থাপনের উদ্যোগটি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন, যারা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে প্রথমেই জুলাই শহীদের ছবি চোখে পড়ায় ক্ষুব্ধ। ব্যানারে ভাষা শহীদদের ছবি না থাকায় এটি ভাষা আন্দোলনের মূল চেতনার প্রতি অবমাননা বলে বিবেচিত হচ্ছে।