ভৈরবে মেঘনা নদীর পাড়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈশাখী মেলার রঙিন আয়োজন
ভৈরবে মেঘনা নদীর পাড়ে বৈশাখী মেলার রঙিন আয়োজন

ভৈরবে মেঘনা নদীর পাড়ে বৈশাখী মেলার রঙিন আয়োজন

ভৈরবের মেঘনা নদীর পাড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ ভৈরবের আয়োজনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন বছরের প্রথম দিনে সূর্যের আলোয় উদ্ভাসিত এই মেলায় তিন থেকে চার লাখ মানুষের সমাগম ঘটে, যা বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

মেলার সূচনা ও পরিবেশ

সকালবেলা মেলার গেটে ‘শুভ নববর্ষ ১৪৩৩’ লেখা রঙিন ব্যানার দর্শকদের স্বাগত জানায়। ভিড় কম থাকায় দর্শকরা ধীরে ধীরে মেলার প্রতিটি কর্নার ঘুরে দেখার সুযোগ পায়। মেলায় সারিবদ্ধ দোকান ও হকারদের জন্য আলাদা জায়গা রাখা হয়, যা পুরো আয়োজনকে গোছানো ও পরিকল্পিত করে তোলে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের স্বেচ্ছাসেবকেরা মেলা জুড়ে নজরদারি চালান, নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে।

র‍্যালি ও সাংস্কৃতিক আয়োজন

মেলার উদ্বোধন উপলক্ষে একটি জাঁকজমকপূর্ণ র‍্যালি আয়োজন করা হয়, যা ঢাকঢোল ও রঙিন ব্যানারে সজ্জিত হয়ে পুরো মেলাকে প্রাণবন্ত করে তোলে। র‍্যালিটি মেলার শেষ প্রান্তে একটি মঞ্চে গিয়ে শেষ হয়, যেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পুতুলনাচ, লোকগান, কবিতা আবৃত্তি ও বৈশাখের গানে মেলা মুখরিত হয়ে ওঠে, প্রতিটি আয়োজনে আলাদা আবেগ ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া থাকে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মেলার বৈচিত্র্য ও আকর্ষণ

মেলায় নানা রকমের দোকান ও স্টল চোখে পড়ে। খেলনার দোকানে শিশুদের জন্য রঙবেরঙের খেলনা সাজানো থাকে, যা তাদের হাসি ও উচ্ছ্বাসে পরিবেশকে আরও প্রাণচঞ্চল করে তোলে। মাটির তৈজসপত্রের দোকানে কুমোরদের হাতে গড়া ব্যাংক, গরু, হাতি ও পুতুল দেখা যায়, যেখানে মাটির গন্ধমাখা সৌন্দর্য বিদ্যমান। বেতের তৈরি ডালা, কুলা, ঝুড়ি প্রভৃতি গ্রামীণ জীবনের অপরিহার্য উপকরণও মেলায় উপস্থিত থাকে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • খাবারের দোকানে মুড়ি-মুড়কি, বাতাসা, কদমা, খাজা, জিলাপি ও নিমকির মতো ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু খাবার সাজানো হয়।
  • হাতে বানানো হাতপাখা ও কাচের চুড়ি গ্রামীণ জীবনের সরলতা ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকে।
  • হকাররা ঢোল বাজিয়ে, বাঁশি বাজিয়ে ও মাইকে ডাক দিয়ে ক্রেতা আকর্ষণের চেষ্টা করে।

মানুষের অংশগ্রহণ ও আন্তরিকতা

মেলায় আগত মানুষের মধ্যে ভৈরব বন্ধুসভার পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মহিমা মেধা আপু মানুষের গালে ‘শুভ নববর্ষ’ লিখে দেন, যা উৎসবকে আরও ব্যক্তিগত ও হৃদয়ছোঁয়া করে তোলে। অপরিচিত মানুষও একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে ব্যস্ত থাকে, ‘শুভ নববর্ষ’ যেন এক সেতুবন্ধের ভূমিকা পালন করে। দর্শকরা ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ ও গল্পে মেতে পুরো মেলার আবহকে ধরে রাখতে চায়।

সমাপ্তি ও প্রতিফলন

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে মানুষ ধীরে ধীরে বাড়ির পথে ফিরতে শুরু করে এবং ব্যবসায়ীরা দোকান গুছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। দিনের ব্যস্ততা শেষে ক্লান্তির ছাপ সবার মুখে ফুটে উঠলেও, তৃপ্তির হাসি লুকিয়ে থাকে। মেলা রাত আটটা পর্যন্ত চললেও, এই বিশাল জনস্রোতের সাক্ষী হয়ে থাকে ভৈরবের মেঘনা নদীর পাড়। এই উৎসব শুধু একটি দিন নয়, বরং বাঙালির ঐতিহ্য, শিকড় ও ভালোবাসার আরেক নাম হিসেবে বিবেচিত হয়।