খুলনা বন্ধুসভার বৈশাখী উৎসবে বরণ হলো বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩
রঙিন স্বপ্ন, ঢোলের তালে তালে নতুন আশার আলোয় উদযাপিত হলো বাংলা নববর্ষ। পয়লা বৈশাখের এই শুভক্ষণে পুরোনো ক্লান্তি ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা নিয়ে সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ। খুলনা বন্ধুসভা তাদের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ কে সাদরে গ্রহণ করেছে।
বৈশাখী আড্ডায় প্রাণবন্ত উৎসব
১৭ এপ্রিল, প্রথম আলো খুলনা অফিস প্রাঙ্গণে এই বর্ষবরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ সম্পাদক ফারজানা যূথীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয় কবিতা আবৃত্তি, গল্প বলা এবং শৈশবের বৈশাখের স্মৃতিচারণার মাধ্যমে। বৈশাখী আড্ডাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে সবার অংশগ্রহণে, যা নতুন বছরের সূচনাকে আরও বিশেষ করে তোলে।
সহসভাপতি গৌতম রায় তার বক্তব্যে বলেন, 'পয়লা বৈশাখ আমাদের জীবনে নতুন দিগন্তের সূচনা করে। বৈশাখের রঙিন আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। বন্ধুসভার বন্ধুদের এই আয়োজন বৈশাখকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।' তার কথায় ফুটে উঠেছে নতুন বছরের আশা ও উদ্দীপনা।
উপস্থিতি ও সাংস্কৃতিক আয়োজন
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের বিভিন্ন পদাধিকারী ও সদস্যরা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
- উপদেষ্টা উত্তম মণ্ডল
- আসফিক আহমেদ সিদ্দিকী
- সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এম মাসুম বিল্যাহ
- সহসভাপতি হাফিজুর রহমান
- যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রহমতুল্লাহ
- অর্থ সম্পাদক অনির্বাণ সরকার
- সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত গাইন
- স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক দ্বীপ মণ্ডল
- পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শ্রাবন্তী কুণ্ডু
- দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান
- পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক শাম্মি আক্তার
- কার্যনির্বাহী সদস্য পাপন কংসবণিক
- বন্ধু আনিকা অবন্তী, আবু হানিফা, ছায়িদুল সরদার, সালাউদ্দীন সাবাদসহ অনেকে
এই বৈশাখী উৎসবে সাংস্কৃতিক আয়োজন ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন ছিল, যা বাংলা নববর্ষের চিরাচরিত রীতিকে সম্মান জানিয়েছে। অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র আনন্দের মুহূর্তই তৈরি করেনি, বরং সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করেছে।
নতুন বছরের বার্তা
বাংলা নববর্ষ মানে নতুন শুরু, নতুন স্বপ্ন এবং পুরোনো ভুলগুলো পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ। খুলনা বন্ধুসভার এই আয়োজন সেই বার্তাকেই প্রতিধ্বনিত করেছে, যেখানে সবাই মিলে নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছে। বৈশাখের এই উৎসব শুধুমাত্র একটি দিনের উদযাপন নয়, বরং এটি একটি সামাজিক বন্ধন যা আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে জীবন্ত রাখে।
খুলনা বন্ধুসভার এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, যা ভবিষ্যতেও অনুকরণীয় হয়ে উঠতে পারে।



