দিনাজপুর বন্ধুসভার বৈশাখী উৎসবে বন্ধুত্বের নব আবর্ত ও কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
বাংলা নববর্ষ মানেই নতুন সম্ভাবনা, নতুন স্বপ্ন এবং পুরোনো গ্লানি ভুলে নতুনভাবে পথচলার দৃঢ় প্রত্যয়। এই চেতনাকে ধারণ করে ৫ বৈশাখ ১৪৩৩, যা ইংরেজি ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পড়েছে, সেদিন বিকেলে দিনাজপুর বন্ধুসভা একটি বর্ষবরণ উৎসবের আয়োজন করেছে। 'বৈশাখী হাওয়ায় বন্ধুত্বের নব আবর্ত' শিরোনামের এই অনুষ্ঠানটি দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উৎসবের প্রাণচঞ্চল আবহ এবং বন্ধুত্বের উচ্ছ্বাস পুরো স্থানকে মুখরিত করে তোলে।
উৎসবের সূচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা
শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বৈশাখকে বরণ করে নিতে মনোমুগ্ধকর বৈশাখী গান পরিবেশন করা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে দেয়। সাংস্কৃতিক পর্বে একে একে গান, নাচ এবং কবিতা আবৃত্তি পরিবেশিত হয়। প্রতিটি পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং করতালিতে অনুষ্ঠানস্থল মুখর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে প্রাণবন্ত নৃত্য পরিবেশনা এবং সুরেলা গান অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে, যা বন্ধুদের মাঝে আনন্দের বার্তা পৌঁছে দেয়।
কৃষকদের প্রতি সমর্থন ও বক্তব্যের গুরুত্ব
দিনাজপুর বন্ধুসভার উপদেষ্টা এবং দিনাজপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক শাজাহান সাজু তাঁর বক্তব্যে উৎসবের মূল উদ্দেশ্য ও চেতনা বজায় রাখার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, 'আমরা যে উৎসবগুলো উদ্যাপন করছি, প্রতিটি উৎসবের মূল উদ্দেশ্য ও চেতনা যেন আমাদের মধ্যে থাকে। আমরা ইতিহাস জেনে উৎসবগুলো উদ্যাপন করি। আজ কৃষকেরা শোষিত, বঞ্চিত, পণ্যের প্রাপ্য মজুরি পাচ্ছে না; এমনও হয়েছে কৃষকের পণ্য জ্বালিয়ে দিতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে এই উৎসব উদ্যাপনের পাশাপাশি বন্ধুসভার বন্ধুদের কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে হবে।' এই আহ্বান অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে আসে।
অতিথিদের বক্তব্য ও 'নব আবর্ত' এর তাৎপর্য
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য দেন, যেখানে কৃষকদের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। বন্ধুসভার উপদেষ্টা এবং দিনাজপুর সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রধান শরীফুল ইসলাম 'নব আবর্ত' শব্দটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন এবং বন্ধুদের উদ্দীপনা জোগান। অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবদুল জলিল আহমেদ বন্ধুদের বর্ষবরণের দারুণ সাজগোজের প্রশংসা করেন, যা অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
অনুষ্ঠানের পরিবেশ ও বৈশাখী আপ্যায়ন
পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে বিরাজ করছিল বৈশাখের প্রাণচঞ্চল আবহ, রঙিন পরিবেশ এবং বন্ধুত্বের উচ্ছ্বাস। বন্ধুসভার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি এবং স্থানীয় বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন। প্রথম আলোর দিনাজপুর প্রতিনিধি শৈশব রাজু সবাইকে বৈশাখী আপ্যায়নে আমন্ত্রণ জানান। ঐতিহ্যবাহী খাবার যেমন দই, চিড়া, মিষ্টি এবং কলা পরিবেশন করা হয়, যা উৎসবের আনন্দকে সম্পূর্ণ করে তোলে।
এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি বর্ষবরণ উৎসবই নয়, বরং এটি সামাজিক সচেতনতা এবং ঐক্যের বার্তাও বহন করে। দিনাজপুর বন্ধুসভার এই উদ্যোগ নতুন বছরে নতুন আশা এবং সম্প্রীতির পথ দেখায়, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।



