দ্বিতীয় স্ত্রীর আগুনে পুড়ল মোটরসাইকেল, শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জের
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় পারিবারিক কলহের জেরে একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দুই স্ত্রীর দ্বন্দ্বের মধ্যে দ্বিতীয় স্ত্রী শামিমা স্বামীর উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন মোটরসাইকেলটিতে আগুন দেন। এতে ভুক্তভোগী নয়ন সরদারের বাইকটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং তার ঘরের আংশিক ক্ষতি হয়।
ঘটনার বিবরণ
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার মিত্রসেনপট্টি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নয়ন সরদার ওই গ্রামের মৃত ওসমান আলী সরদারের ছেলে এবং পেশায় একজন মোটরসাইকেলচালক। জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে তিনি বেনটিয়া গ্রামের কাদের সরদারের মেয়ে শামিমাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেন। এরপর থেকেই পরিবারে কলহ লেগেই ছিল, যা শেষ পর্যন্ত এই ধ্বংসাত্মক পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।
প্রথম স্ত্রীর বক্তব্য
নয়নের প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগম জানান, দ্বিতীয় স্ত্রী শামিমা নিয়মিত বাড়িতে থাকতেন না এবং যখনই আসতেন, তখনই ঝগড়া করতেন। তিনি উল্লেখ করেন, শুক্রবার সন্ধ্যায়ও শামিমা এসে ঝগড়া করে চলে যান। পরে শনিবার ভোরে তিনি আবার ফিরে এসে উঠানে রাখা মোটরসাইকেলটিতে আগুন দিয়ে পালিয়ে যান। এই ঘটনায় পরিবারটি এখন চরম অর্থনৈতিক ও মানসিক সংকটের মুখোমুখি।
ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতা
নয়ন সরদার বলেন, "ভোরে বিকট শব্দ পেয়ে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি মোটরসাইকেলে আগুন জ্বলছে এবং ঘরের টিনেও আগুন লেগেছে।" পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও তার জীবিকার প্রধান মাধ্যমটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তিনি আরও যোগ করেন, এই মোটরসাইকেলটি তার পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস ছিল, যা এখন সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।
আইনগত ব্যবস্থা
এ ঘটনায় নয়ন সরদার গোসাইরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। থানার এসআই মেজবা নিশ্চিত করেছেন যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের জেরে মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, "আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, পারিবারিক কলহ এমন ধ্বংসাত্মক রূপ নেওয়া উচিত নয় এবং এটি সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেকেই নয়ন সরদারকে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তিনি আবারও তার জীবিকা ফিরে পেতে পারেন।
এই ঘটনা শরীয়তপুরে পারিবারিক সহিংসতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সমাধানের দাবি রাখে।



