আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও বাংলা নববর্ষে রাশিয়ান হাউসে পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
রাশিয়ান হাউসে পিঠা উৎসব: বাংলাদেশ-রাশিয়া বন্ধুত্বের মেলবন্ধন

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও বাংলা নববর্ষে রাশিয়ান হাউসে সাংস্কৃতিক মিলনমেলা

আন্তর্জাতিক নারী দিবস এবং বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর প্রাক্কালে সোভিয়েত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (এসএএবি) ও ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসের যৌথ উদ্যোগে একটি প্রাণবন্ত পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার রাশিয়ান হাউস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে সোভিয়েত ও রুশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণিল সমাবেশের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা ঘটে।

বাংলাদেশি ও রুশ ঐতিহ্যের সমন্বয়ে পিঠা উৎসব

অনুষ্ঠানের প্রাঙ্গণে তৈরি হয়েছিল এক উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশ ও রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী নানান ধরনের পিঠা উপভোগ করেন। এই পিঠাগুলো উভয় দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটায় এবং একটি উষ্ণ ও আনন্দদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেখা যায় প্রাক্তন শিক্ষার্থী, তাদের পরিবারবর্গ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, যারা এই অনন্য সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অভিজ্ঞতা লাভ করেন।

আলোচনা সভায় বক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য

পিঠা উৎসবের পর ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসের অডিটোরিয়ামে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় বক্তব্য রাখেন ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসের পরিচালক মিস আলেকজান্দ্রা খ্লেভনয়, এসএএবির সাধারণ সম্পাদক স্থপতি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান এবং এসএএবির সভাপতি ও সহ-সভাপতি ড. হামিদা মাইদার।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মিস আলেকজান্দ্রা খ্লেভনয় তার বক্তব্যে শ্রোতাদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং উল্লেখ করেন যে এই সমাবেশ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষকে একত্রিত করেছে। তিনি বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে এটিকে আশা ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের সময় হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বাংলাদেশি নারীদের সমাজে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য গভীর শ্রদ্ধা ও প্রশংসা প্রকাশ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সোভিয়েত ও রুশ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের উপস্থিতি দুই দেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতু হিসেবে কাজ করছে। রুশ শিক্ষা শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের পেশাদার দক্ষতা প্রদানই করে না, বরং তাদের রুশ সংস্কৃতি ও ভাষার সাথেও সংযুক্ত করে। তিনি শিক্ষাগত সহযোগিতার মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্ব শক্তিশালীকরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অর্জনে গর্ব প্রকাশ করে তিনি তাদের রাশিয়ান হাউসের সাথে অব্যাহত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন এবং আগামী বছরে সবার সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে বক্তব্য শেষ করেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রুশ ও বাংলাদেশি পরিবেশনা

আলোচনা সভার পর একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও তাদের সন্তানদের অংশগ্রহণে রুশ ও বাংলাদেশি সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়। এই পরিবেশনাগুলো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের সৃষ্টি করে এবং অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত পরিবেশে সমাপ্ত হয়।

এই আয়োজনটি শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং শক্তিশালী জনসংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান স্থায়ী বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে। এটি দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ককে আরও গভীর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।