মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্কে টানাপোড়েন, কুষ্টিয়ায় বিষপানে তরুণের আত্মহত্যা
লক্ষ্মীপুরের এক তরুণের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মুখে পড়ে বিষপানে আত্মহত্যার মর্মান্তিক ঘটনায় রূপ নিল। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় প্রেমিকার বাড়িতে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে মারুফ (১৮) নামের ওই যুবক। মঙ্গলবার দুপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে, যা পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
নিহত মারুফ লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের ডাকাতেরপোল এলাকার মো. সবুজের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন এবং বাবার সঙ্গেই কাজ করতেন। প্রায় চার মাস আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার স্বপ্না নামের এক তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়, যা উভয় পরিবারই জানত। তবে সম্প্রতি তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়, যা এই মর্মান্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।
মারুফের খালাতো ভাই মাকছুদুর রহমান জানান, এবারের ঈদে মারুফ ঢাকায় তার ফুফুর বাসায় অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে মঙ্গলবার সকালে তিনি প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে কুষ্টিয়ায় যান। সেখানে গিয়ে দুপুরে প্রেমিকার বাড়িতেই বিষপান করে মারুফ। গুরুতর অবস্থায় প্রেমিকা নিজেই তাকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মারুফকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে দুপুরে ঘটনাটি ঘটলেও রাত ওই তরুণীই ফোন করে মারুফের বাবাকে তার মৃত্যুর সংবাদ দেন বলে জানান মাকছুদ।
পরিবারে শোকের মাতম
এদিকে ছেলের এমন অকাল মৃত্যুর খবর আসার পর থেকেই মারুফের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা-মা এখন নির্বাক। কান্নায় ভেঙে পড়ে স্বজনরা জানান, সামান্য মোবাইল ফোনের পরিচয়ে এভাবে জীবনটা শেষ হয়ে যাবে তা তারা কল্পনাও করেননি। মারুফের লাশ আনতে তার দুই জেঠা ও নিকটাত্মীয়রা ইতোমধ্যে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানান স্বজনরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কমলনগর থানার ওসি ফরিদুল আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।
এই মর্মান্তিক ঘটনা সামাজিক সম্পর্ক ও ডিজিটাল যোগাযোগের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তরুণ-তরুণীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় সঠিক নির্দেশনা প্রয়োজন, যাতে এমন ট্র্যাজেডি এড়ানো যায়।



