আলেকজান্ডারের পাগলামি: বিশ্ব জয়ের নেশায় মত্ত এক যোদ্ধার অমীমাংসিত প্রশ্ন
মাসুক হেলালতুমি সামনের কাতারে লড়েছেন—তরবারি হাতে, ঢাল নিয়ে, বুকে-পিঠে ক্ষত নিয়ে। সৈনিকের সাথে সৈনিক, মাটির সাথে মাটি, রক্তের সাথে রক্ত মিশিয়ে দিয়েছেন তিনি তার ঘোড়ার ক্ষুরের ধুলোয়। কিন্তু তবু কেন? কেন এই পাগলামি? পৃথিবী জয় করবেই—এই এক রক্তচক্ষুর দিব্যদৃষ্টি কেন জেগেছিল তার মনে?
পারস্যের ধুলোয় লুকানো স্বর্গের চাবি
কোন মোহনবাঁশির সুর ছিল ওপারে? কোন স্বর্গের চাবি লুকানো ছিল পারস্যের ধুলোয়? কোন অমৃত মিশেছিল সিন্ধুর ঢেউয়ে? আলেকজান্ডার শুধু যুদ্ধের পরে যুদ্ধ, মৃত্যুর পরে মৃত্যুই বয়ে আনেননি, তিনি ছুটেছিলেন শুধু একটি নামের পেছনে—‘আলেকজান্ডার’। নামটা এত বড় করার কী দরকার ছিল তার? হাত বাড়ালেই ধরা যেত শত্রুর বুকের স্পন্দন, তবু কেন তিনি আকাশ ছুঁতে চাইলেন?
মাত্র বত্রিশটি বসন্ত ফুটেছিল তার জীবনে, তার মাঝে কত লাশ, বিদ্বেষের আগুনে কত পোড়া দেশ—ধূসর পৃথিবীকে উপহার দিলেন তিনি। সৈনিকের মতো লড়েছেন, রাজার মতো স্বপ্ন দেখেছেন, পাগলের মতো বিশ্ব জয় করেছেন—তাতে কী হলো? শেষে তো যেতে হলো পুরোনো মাটির ঘরে, শূন্য হাতে—যেখান থেকে কেউ কখনো ফেরেনি।
ইতিহাসের নির্মম সত্য: যে জয় করে, সে বাঁচে না বেশি দিন
তখন বুঝেছিলেন, অথবা বুঝতে পারেননি—তার পাগলামির কোনো উত্তর হয় না। শুধু এইটুকু জানা যায়: যে বাঁচে বেশি দিন, সে জয় করে না। যে জয় করে, সে বাঁচে না বেশি দিন। তাকে পেয়ে বসেছিল—দীর্ঘ নয়, বড় হওয়ার নেশা। আর সেই নেশার নামই ইতিহাস।
ইতিহাস বড় নির্মম, তার কাছে কোনো প্রশ্ন নিয়ে যাওয়া যায় না, তার সাথে কোনো তর্ক চলে না, তার একতরফা সিদ্ধান্ত শুধু নীরবে মেনে নিতে হয়। তিনি জানতেন না? সময়ের মরুভূমিতে কোথাও কোনো গন্তব্য নেই, আছে শুধু অনেক দূরের ডাক, আর এক অনন্ত প্রেমের প্রশ্ন—‘কেন?’
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected] দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন আমেরিকা দূর পরবাস, দূর পরবাস গল্প, প্রবাসী জীবন, জীবনের গল্প।



