শ্রীপুরে ডিমের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে খামারিদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ
শ্রীপুরে ডিমের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে খামারিদের মানববন্ধন

গাজীপুরের শ্রীপুরে মুরগির ডিমের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন প্রান্তিক খামারিরা। সড়কে মুরগির ডিম ফেলে প্রতীকী প্রতিবাদও করেছেন তারা। শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনাবাজার পদচারী-সেতুর নিচে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে খামারিদের অংশগ্রহণ

মুরগির ডিম উৎপাদনকারী মেসার্স হান্নান এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন এলাকার খামারিরা অংশ নেন। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল নানা দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। এতে ‘ডিম খেলে পুষ্টি মেলে, খামারিরা কেন ঋণের জালে’ এবং ‘ডিমের দাম কমল কেন, জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান লেখা ছিল।

খামারিদের আর্থিক সংকট

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, উৎপাদন খরচের তুলনায় বর্তমানে ডিমের বাজারদর অনেক কমে যাওয়ায় খামারিরা চরম আর্থিক সংকটে আছেন। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে অনেকেই কোনোরকমে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। এক খামারি দাবি করেন, খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় ডিমের একটি ন্যায্যমূল্য বেঁধে দেওয়া হোক।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খামারিদের অভিযোগ, বাজারে কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান ও সিন্ডিকেটের প্রভাবেই তারা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধানে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ চান তারা।

উৎপাদন খরচ ও বাজারদরের ব্যবধান

আবু তালেব নামের এক খামারি জানান, ডিম বেচে মুরগির খাবার কেনার টাকা ওঠে না। ওষুধসহ অন্যন্য খরচ মেটাতে ঋণ বাড়ছে। এই শিল্পকে বাঁচাতে এখনই উদ্যোগ দরকার। খামারি রাজিবুল ইসলাম জানান, বর্তমানে বাজারে একটি ডিমের দাম সাড়ে ছয় টাকা মাত্র। অথচ এই ডিমের উৎপাদন খরচ সাড়ে ৮ থেকে ৯ টাকা। তিনি বলেন, ‘আমরা আর লস গুনতে পারছি না। ঋণ করে মুরগির খাবারের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আরেক খামারি বলেন, ‘বাজারে কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান ও সিন্ডিকেটের কারণে আমরা উৎপাদিত ডিমের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। প্রতিদিন ডিমের চাহিদা আছে, বিক্রিও হচ্ছে। কিন্তু ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না ডিম উৎপাদনকারী খামারিরা। এ বিষয়ে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দরকার।’

প্রশাসনের বক্তব্য

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ ভূঞা বলেন, ‘প্রান্তিক খামারিদের কেউ তার কাছে আসেননি। যদি আসেন, তাহলে তাদের নিয়ে বসে বিস্তারিত শুনবেন।’