কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুই শিশু পুকুরের পানিতে ডুবে মারা গেছে। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়নের সওদাগরঘোনা চারা বটতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুদের একজন বকেয়া মনি (৭) এবং অন্যজন হুজাইফা জান্নাত (৫)। তারা উভয়ে মামাতো–ফুফাতো বোন সম্পর্কে আবদ্ধ ছিল।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনা অনুযায়ী, বকেয়া মনি কয়েক দিন আগে তার মায়ের সঙ্গে নানার বাড়ি সওদাগরঘোনা চারা বটতলী এলাকায় বেড়াতে আসে। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সে তার মামাতো বোন হুজাইফা জান্নাতকে সঙ্গে নিয়ে নানাবাড়ির অদূরে অবস্থিত একটি পুকুরপাড়ে খেলতে যায়। খেলার এক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে দুজনই পুকুরে পড়ে যায়।
স্বজনেরা দ্রুত সাড়া দিয়ে পুকুরের পানিতে ভাসমান অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাদের তৎক্ষণাৎ চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থা
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জায়নুল আবেদীন ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, “দুই শিশুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। আমরা তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।”
এদিকে, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, “লাশ দুটি ময়নাতদন্ত ছাড়াই আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্থানীয় প্রশাসন এই দুর্ঘটনার তদন্ত ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সচেষ্ট রয়েছে।
শিশু নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা
এই ঘটনা শিশু নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুকুর বা জলাশয়ের কাছে শিশুদের একা খেলতে দেওয়া উচিত নয় এবং পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকা জরুরি। চকরিয়া উপজেলার মতো উপকূলীয় অঞ্চলে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সম্প্রদায় এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে এবং মৃত শিশুদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



