শিশু-কিশোরদের হাতে নির্মিত ‘মুক্তিযুদ্ধের দেয়াল’, স্মরণে গণহত্যা দিবস
শিশুদের হাতে ‘মুক্তিযুদ্ধের দেয়াল’, স্মরণে গণহত্যা দিবস

শিশুদের হাতে নির্মিত ‘মুক্তিযুদ্ধের দেয়াল’

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে এক অনন্য দৃশ্যের অবতারণা হলো। শিশু-কিশোরেরা কাগজের বাক্স ব্যবহার করে একটি প্রতীকী দেয়াল নির্মাণ করল, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের দেয়াল’। এই আয়োজন বাংলাদেশ গণহত্যা দিবস ও কালরাত্রি স্মরণে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোগে পরিচালিত হয়েছে।

শৈল্পিক প্রকাশ ও প্রতীকী বার্তা

একদিকে শিশুরা কাগজের বাক্স দিয়ে দেয়াল তৈরি করছিল, নির্মাণ শেষে তারা দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতীকী গুলির আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। এটি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি জাগিয়ে তুলল। অন্যদিকে, রং-তুলি হাতে শিশুরা জাতীয় স্মৃতিসৌধ, রক্তিম সূর্য এবং সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশের চিত্র আঁকল। পরে এই ছবিগুলো কাগজের বাক্সের দেয়ালে সাঁটানো হলো।

জাদুঘরের প্রাঙ্গণজুড়ে কাগজ দিয়ে বানানো সাদা পাখি বসানো ছিল, যা শান্তির বার্তা বহন করে। কিছু পাখির গায়ে রক্তের মতো লাল রঙের ছাপ দেখা গেল, যেন পাখির ডানা থেকে রক্ত ঝরছে। কালো ব্যাজের ওপর পাখিগুলো বসানো এই দৃশ্য ১৯৭১ সালের ভয়াল স্মৃতিকে মনে করিয়ে দিল। সন্ধ্যায় এই পাখিদের মাঝে মোমবাতি জ্বালানো হবে, বার্তা দেওয়া হবে যে যতই ঝড় আসুক, আলো জ্বলবেই।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিশুদের অংশগ্রহণ ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্য

আয়োজনে ঐকতান সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রের সহযোগিতায় ৩০ জন শিশু-কিশোর অংশ নিয়েছে। ৬ বছর বয়সী আদি মদোক প্রভু জাতীয় স্মৃতিসৌধ আঁকার সময় বলল, এটি তার জন্য একটি শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক শিশুদের চিত্রাঙ্কন পরিদর্শন করে বলেন, “শিশুরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি, কিন্তু এই দেয়াল তাদের মনস্তত্ত্বে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এনে দেবে। ছবিগুলো একটার পর একটা বাক্সে বসানো হলে অন্য রকম শক্তির বার্তা দেবে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিশুদের সহযোগিতা করছিলেন ঐকতান সাংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রের সাবেক শিক্ষার্থী নিরুপমা চক্রবর্তী, যিনি এখন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। তিনি বলেন, “শিশুদের মনস্তত্ত্বে এই কাজগুলোর ছাপ সব সময় থেকে যায়।” শিক্ষক সঞ্জয় দাস ব্যাখ্যা করেন, “শিশুরা যাতে আনন্দের সঙ্গে সহজে মুক্তিযুদ্ধ বুঝতে পারে, সে জন্য এই আয়োজন। তারা জানে না ’৭১ কী, যুদ্ধ কী, তাই সহজ ভাষায় ও কাজে মুক্তিযুদ্ধ বোঝানো হচ্ছে।”

আয়োজনের অন্যান্য কর্মসূচি

এই দেয়াল আগামী এক সপ্তাহ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রদর্শিত হবে। আয়োজনের অংশ হিসেবে বিকেল ৪টায় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘রিমেম্বারিং দ্য ১৯৭১ জেনোসাইড: মেমোরি, ডিনায়াল অ্যান্ড লেসন্স’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হবে। প্যানেল আলোচনায় তরুণ গবেষকেরা অংশ নেবেন, এবং সংগীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করবে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী ও মুক্তধারা আবৃত্তি চর্চাকেন্দ্র। শিশুরা জাদুঘর ঘুরে দেখবে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানবে, যা তাদের জন্য একটি সমৃদ্ধ শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে।