শিশুরা প্রকৃতিগতভাবেই পক্ষপাতিত্ব করে বলে মনে হয়। তা না হলে বাবার তুলনায় মায়ের মাথায় বেশি চুল থাকার কারণ কী? বাবার মাথার চুল পিচ্চি ঝিমু একটার পর একটা করে ছিঁড়ে দিচ্ছে। সারা দিন বাবা বাসায় থাকলে ঝিমু বাবার মাথা টাক বানানোর জন্য যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। অথচ একই শিশু যখন মায়ের কোলে উঠে, তখন সে কত সুন্দরভাবে চুল না ছিঁড়ে শুধু খেলাধুলা করে। শিশুরা আরও কত কথা বলে তাদের নিজস্ব ভাষায়, যা পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্বোধ্য ভাষাগুলোর মধ্যে একটি। এই ভাষার সমস্ত রহস্য একমাত্র মায়েরাই বুঝতে পারেন, এ–টু–জেড পর্যন্ত।
বাবার অসহায়ত্ব ও মায়ের দক্ষতা
সেদিনের ঘটনাটি চিন্তা করুন: বাবা ঝিমুকে কোলে নিয়ে আদর করছেন, কিন্তু মেয়েটি হঠাৎ করেই জোরে কান্না শুরু করে দিল। বাবা তাকে থামানোর চেষ্টা করলেন, কিন্তু সফল হলেন না। কোল থেকে নামালে কান্নার তীব্রতা বেড়ে যায়, আবার কোলে নিলে আরও বাড়তে থাকে। শিশুটি কী বলতে চাইছে, তা বাবা তো দূরের কথা, বাবার বাবাও বুঝতে পারছেন না।
মায়ের জাদুকরী ক্ষমতা
মা এসে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে ঝিমুর কান্না থামিয়ে দিলেন। ঝিমু কেন মায়ের চুল ছিঁড়ে না, এই প্রশ্নের উত্তর বাবা আজও খুঁজে পাচ্ছেন না। মাকে জিজ্ঞেস করতেই মা উল্টোপাল্টা উত্তর দেন, আরো অনেক বাজে বাজে কথা বলেন। তার মধ্যে একটি উক্তি হলো, ‘বুড়ো মানুষের মাথায় চুল না থাকলে কী সমস্যা?’ বাবার ভালো লাগে না এই ধরনের মন্তব্য। ভালো লাগার জন্য তিনি পিচ্চি ঝিমুকে আবার কোলে নেন, কারণ সন্তানকে কোলে নিলে মন্দ লাগা দূর হয়ে যায়। শিশুর হাসি যেন সমস্ত দুঃখের সমাপ্তি টানে।
শিশুর আচরণের মনস্তাত্ত্বিক দিক
শিশুরা তাদের পরিবেশ থেকে শেখে এবং প্রতিক্রিয়া দেখায়। বাবা-মায়ের সাথে তাদের সম্পর্কের গভীরতা এই আচরণকে প্রভাবিত করে। মায়েরা সাধারণত শিশুর চাহিদা ও ভাষা বেশি বোঝেন, কারণ তারা বেশি সময় কাটান এবং সহজাত মমত্ববোধ কাজ করে। অন্যদিকে, বাবা হয়তো কর্মব্যস্ততার কারণে শিশুর সূক্ষ্ম সংকেতগুলো ধরতে পারেন না।
ঝিমুর মতো শিশুরা বাবার সাথে খেলার সময় চুল ছিঁড়ে, যা একটি স্বাভাবিক অন্বেষণমূলক আচরণ। কিন্তু মায়ের সাথে তারা বেশি স্নেহময় ও শান্ত থাকে, কারণ মা তাদের নিরাপত্তা ও আরামের উৎস। এই পার্থক্যটি শিশুর বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা বাবা-মায়ের ভূমিকাকে আলাদাভাবে তুলে ধরে।
পরিবারের গল্প শেয়ার করুন
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]। শিশুদের নিয়ে এমন মজার ও শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অন্যান্য পিতামাতাকে সাহায্য করুন।
