কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে শিশুর মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে: পুলিশ তদন্তে নামল
কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় সাড়ে চার মাস বয়সী এক শিশুর মরদেহ বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটি গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘ ২৮ দিন ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আজ মঙ্গলবার সকালে বাড়ির সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করার সময় শিশুটির গলিত লাশের সন্ধান মেলে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
নিখোঁজ শিশুটির নাম মো. আশরাফুল। তার বাবা শাহিন মিয়া কুলিয়ারচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের একজন গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত। পরিবারটি কুলিয়ারচর উপজেলার দ্বাড়িয়াকান্দি গ্রামে বসবাস করে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশু আশরাফুল অদৃশ্য হয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে খুঁজতে নানা জায়গায় অনুসন্ধান চালান, কিন্তু কোনো সফলতা পাননি। পরে তারা স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশও নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চালায়। তবে আজ সকাল ১০টার দিকে বাড়ির সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কারের সময় শিশুটির মরদেহ আবিষ্কৃত হয়। পুলিশ দুপুরে গিয়ে শিশুটির গলিত লাশ উদ্ধার করে।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের বক্তব্য
শিশুটির বাবা শাহিন মিয়া মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেন, 'নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা নানা জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি। পুলিশও আমাদের সহায়তা করেছে। কিন্তু আমার সন্তানকে কী কারণে এবং কারা ট্যাংকের ভেতর ফেলে হত্যা করবে, তা আমি কোনোভাবেই বুঝতে পারছি না।' তিনি পরিবারের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, 'শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আমরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়েছি। এখন আমরা ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং দোষীদের খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত শুরু করেছি।' পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, মরদেহটি পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সন্দেহে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
এই ঘটনায় স্থানীয় গ্রামবাসী ও সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই শিশু হত্যার মতো নৃশংস ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন এবং দ্রুত বিচার দাবি করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশু নিরাপত্তা ও পারিবারিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারা সম্ভাব্য সাক্ষীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছেন। আশা করা হচ্ছে, শীঘ্রই এই মর্মান্তিক ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হবে এবং দোষীরা আইনের আওতায় আসবে।
