হারানো পোষা বিড়াল ফিরে পেতে বাগেরহাটে দেয়ালে দেয়ালে পোস্টারিং
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সদর বাজারে একটি মর্মস্পর্শী ঘটনা ঘটেছে, যেখানে একজন মালিক তার হারানো পোষা বিড়াল ফিরে পেতে এলাকার বিভিন্ন স্থানে পোস্টার লাগিয়ে বেড়াচ্ছেন। নুসরাত জাহান নিতু নামের এই ব্যক্তি তার দুটি প্রিয় বিড়াল হারানোর পর এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এবং তাদের খোঁজে সক্রিয়ভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
বিড়াল হারানোর ঘটনা
নুসরাত জাহান নিতু জানান, তিনি ঈদের সময় তার পরিবারের সাথে চিতলমারী সদর বাজারের নানা বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। আসার সময় তিনি তার আদরের দুটি পোষা বিড়াল সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন। প্রথম কয়েক দিন বিড়াল দুটিকে নজরে রাখলেও, কয়েক দিন আগে তারা অদৃশ্য হয়ে যায়। তিনি বলেন, "প্রথম দিকে আমরা সতর্ক ছিলাম, কিন্তু হঠাৎ করেই তারা চোখের আড়ালে চলে যায়, যা আমাদের জন্য খুবই কষ্টদায়ক হয়েছে।"
খোঁজাখুঁজির প্রচেষ্টা
হারানো বিড়ালের সন্ধানে নিতু এখন তার ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে লোকের বাসায় বাসায় খুঁজে বেড়াচ্ছেন। কোনো উপায় না পেয়ে, তিনি বিড়ালের ছবিসহ হারানো বিজ্ঞপ্তির পোস্টার তৈরি করে এলাকার দেয়ালে দেয়ালে লাগিয়ে দিচ্ছেন। পাশাপাশি, তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে, বিড়াল দুটির সন্ধান দাতাকে উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।
বিড়ালের বিবরণ
হারানো বিড়াল দুটি সম্পর্কে নিতু বিস্তারিত জানান:
- একটি স্ত্রী বিড়াল, বয়স ৬ বছর, গায়ের রং ধূসর।
- একটি পুরুষ বিড়াল, বয়স ৩ বছর, গায়ের রং সাদার উপরে কালো ছোপযুক্ত।
তিনি উল্লেখ করেন যে, বিড়াল দুটি দেখতে দেশীয় প্রজাতির মনে হলেও আসলে বিদেশি জাতের এবং একটু ভিতু স্বভাবের। "এই বিড়ালগুলো আমার পরিবারের অংশ, তাদের হারানো আমার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক," তিনি বলেন।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা বেশ অবাক ও সহানুভূতিশীল প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। চিতলমারী ওয়াপদা রোডের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন খান বলেন, "প্রাণীর প্রতি এমন গভীর ভালোবাসার নজির খুব কমই দেখা যায়। আশপাশের লোকজনও বিষয়টি নিয়ে ভাবছে এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে।" তিনি অনুরোধ করেন, কারো সামনে বিড়াল দুটি পড়লে যেন অবিলম্বে নিতুর বাসায় খবর দেওয়া হয়।
এই ঘটনা শুধু একটি হারানো পোষা প্রাণীর গল্পই নয়, বরং এটি প্রাণীর প্রতি মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থানীয় সম্প্রদায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। নিতু ও তার পরিবারের নিরলস প্রচেষ্টা আশা জাগাচ্ছে যে, শীঘ্রই তার প্রিয় বিড়াল দুটি ফিরে পাবেন।



