টাঙ্গাইলের সখীপুরে পাঁচ দিন মুখে বয়াম আটকে থাকা পথকুকুরের উদ্ধার
সখীপুরে পাঁচ দিন মুখে বয়াম আটকে থাকা কুকুরের উদ্ধার

টাঙ্গাইলের সখীপুরে পাঁচ দিন মুখে বয়াম আটকে থাকা পথকুকুরের উদ্ধার

টাঙ্গাইলের সখীপুরে একটি পথকুকুরের মুখে পাঁচ দিন ধরে প্লাস্টিকের বয়াম আটকে থাকার পর তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার বিকেলে সখীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানবান্দা এলাকায় এই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার সকালে খাবারের সন্ধানে এলাকার একটি দোকানে ঢোকে পথকুকুরটি। একপর্যায়ে প্লাস্টিকের একটি বয়ামের ভেতর মুখ ঢুকিয়ে দিলে সেটি তার মুখে আটকে যায়। এর পর থেকে কুকুরটি নানা জায়গায় ঘুরে বয়ামটি খোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পাঁচ দিন ধরে খেতে না পেয়ে কুকুরটি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তার করুণ অবস্থা স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

স্থানীয় শিক্ষিকার উদ্যোগ ও দারোয়ানের সাহসী ভূমিকা

সানবান্দা এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা রিতা আক্তার জানান, আজ সকালে কুকুরটির করুণ অবস্থা দেখে তাঁর খুব মায়া লাগে। তিনি এর আগে ফেসবুকে একটি ভিডিওতে দেখেছিলেন, পৌরসভার এক কর্মী বয়াম কেটে কুকুরকে উদ্ধার করছেন। পরে খোঁজ নিয়ে সেই ব্যক্তির নম্বর সংগ্রহ করে তাঁকে খবর দেন। রিতা আক্তার বলেন, ‘আবু তালেব অনেক ঝুঁকি নিয়ে কাজটি করেছেন। একটি নিরীহ প্রাণীকে বাঁচানোর জন্য তাঁর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’ রোববার বিকেলে আবু তালেব ঘটনাস্থলে এসে কুকুরটিকে জাল দিয়ে কৌশলে ধরে দা দিয়ে মুখে আটকে থাকা বয়ামটি কেটে ফেলেন। এতে কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই কুকুরটি মুক্ত হয়।

উদ্ধারকারীর আবেগ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

কুকুরটিকে উদ্ধার করতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করে আবু তালেব বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। মানুষের খুব বেশি উপকার করতে পারি না। অন্তত একটা অসহায় প্রাণীকে বাঁচাতে পেরেছি—এটাই আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া।’ তিনি জানান, এর আগেও একাধিকবার তিনি এভাবে বয়াম কেটে কুকুর উদ্ধার করেছেন। এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় উল্লেখ করে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল রনী বলেন, ‘একটি অসহায় প্রাণীকে বাঁচাতে পৌরসভার একজন কর্মী যে মানবিকতা দেখিয়েছেন, তা সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে। আমরা চাই, মানুষ শুধু মানুষের প্রতিই নয়, সব প্রাণীর প্রতিও সহমর্মী হোক।’

এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে প্রাণী কল্যাণ ও মানবিকতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে প্রাণীদের রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের দিকটি এখানে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। সখীপুরের বাসিন্দারা আবু তালেবের সাহসী উদ্যোগের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছেন।