কবুতরের একটুখানি বিশ্রাম: একটি অপ্রত্যাশিত বন্ধুর আগমন
পাতলা খান লেন, লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর, ঢাকার একটি পরিবারের গল্প শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে। শখ করে আব্বু অনেকগুলো কবুতর কিনেছিলেন। পরিবারের দুই ভাই–বোন প্রতিদিন ওদের যত্ন নিতেন, দেখাশোনা করতেন। কিন্তু এক মাস পর হঠাৎ করেই একটি কবুতর অসুস্থ হয়ে মারা গেল। এরপর ধীরে ধীরে একে একে সব কবুতর অসুস্থ হতে শুরু করল। শেষ পর্যন্ত যে দুটি কবুতর বেঁচে ছিল, সেগুলোও বিক্রি করে দেওয়া হলো।
কোয়েল পালনের স্বপ্ন ও হতাশা
কবুতর হারানোর পর, পরিবারের সদস্যদের মনে জাগল কোয়েল পালনের ইচ্ছা। তারা কোয়েল কিনে আনলেন এবং অনেক দিন সবকিছু ঠিকঠাক চলল। কোয়েলগুলো ডিমও পাড়তে শুরু করেছিল, যা পরিবারের জন্য আনন্দের বিষয় ছিল। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই, কবুতরদের মতোই কোয়েলগুলোরও একই রকম অবস্থা হতে শুরু করল। অসুস্থতা দেখা দিল এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলোও বিক্রি করে দিতে বাধ্য হলেন তারা।
রাতের অন্ধকারে একটি অপ্রত্যাশিত সাক্ষাৎ
গত বছরের জুন মাসে, রাত ১২টার দিকে আব্বু যখন দোকান বন্ধ করতে গেলেন, তখন তিনি একটি অবাক করা দৃশ্য দেখতে পেলেন। একটি কবুতর রাস্তায় বসে ছিল, তার চারপাশে অনেকগুলো কুকুর ঘিরে ধরেছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, কবুতরটি উড়ে যাচ্ছিল না। আব্বু তাকে বাসায় নিয়ে এলেন এবং পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন যে কবুতরটি শীঘ্রই উড়ে চলে যাবে।
কিন্তু কবুতরটি তাদের সবাইকে অবাক করে দিয়ে বাসা থেকে আর যেতেই চাইল না। এটি একটি অদ্ভুত ও মর্মস্পর্শী মুহূর্ত ছিল। মানে, যখন তারা ইচ্ছা করে কবুতর পুষতে চেয়েছিলেন, তখন কোনো লাভ হচ্ছিল না, আর যখন না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তখন একটি কবুতর নিজে থেকেই এসে হাজির হলো। এটি সত্যিই একটি আজব ও হৃদয়গ্রাহী ব্যাপার!
লেখক: শিক্ষার্থী, তৃতীয় শ্রেণি, আশরাফুল উলুম নুরানি মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম। এই গল্পটি পাঠকের লেখা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, যা জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তের সৌন্দর্যকে তুলে ধরে।
