ঢাকার বায়ুদূষণ: অস্বাস্থ্যকর অবস্থায়, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় পঞ্চম স্থান
সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় বায়ুদূষণ আবারও উদ্বেগজনক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশ কয়েক দিন ধারাবাহিকভাবে চলমান এই দূষণ পরিস্থিতির মধ্যে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালেও শহরটির বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় রয়ে গেছে। বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণা ও অন্যান্য দূষণকারী পদার্থের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায়, ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও ঢাকার বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে বিরাজ করছে।
আন্তর্জাতিক তথ্য ও একিউআই স্কোর বিশ্লেষণ
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই স্কোর ছিল ১৭১। এই স্কোর নিয়ে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে স্থান পেয়েছে। একই সময়ে তালিকার শীর্ষে ছিল মিশরের রাজধানী কায়রো, যার একিউআই স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ৬৫৮। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা, তৃতীয় স্থানে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই এবং চতুর্থ স্থানে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু। দূষিত শহরের শীর্ষ দশে থাকা অন্যান্য শহরগুলোর একিউআই স্কোর ১০৭ থেকে ৬৫৮-এর মধ্যে পরিবর্তিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বায়ুমান সূচকের শ্রেণিবিভাগ ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব
বায়ুমানের আন্তর্জাতিক সূচক অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে তা ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে ‘মাঝারি’ এবং ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। এ ছাড়া ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর হলে তা সাধারণভাবে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ অবস্থা বলে চিহ্নিত করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে, বিশেষজ্ঞরা শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার এবং অন্যদের বাইরে চলাচল সীমিত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। দূষিত বায়ু শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যার মধ্যে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, হৃদরোগ ও ফুসফুসের রোগ উল্লেখযোগ্য।
দূষণ বৃদ্ধির কারণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ঢাকায় বায়ুদূষণ বৃদ্ধির পেছনে নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং আবহাওয়াগত অবস্থা প্রধান ভূমিকা পালন করছে। শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও নগরায়নের চাপও এই সমস্যাকে ত্বরান্বিত করছে। পরিবেশবিদরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে দূষণ নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দিচ্ছেন।
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।



