ঢাকার বায়ু মান 'অস্বাস্থ্যকর', বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১২তম স্থান
ঢাকার বায়ু মান অস্বাস্থ্যকর, বিশ্বে ১২তম দূষিত শহর

ঢাকার বায়ু মান 'অস্বাস্থ্যকর' শ্রেণিভুক্ত, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১২তম স্থান

শনিবার সকাল ৯টা ২৪ মিনিটে ঢাকা শহরের বায়ু মানের অবস্থা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ১২১ রেকর্ড করে, ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ১২তম স্থান অধিকার করেছে। এই স্কোর অনুযায়ী, বায়ু 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়েছে, যা স্বাস্থ্য ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরগুলোর অবস্থান

একিউআই তালিকায় থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই শহর ২৫১ স্কোর নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে। এরপর দ্বিতীয় স্থানে মিশরের কায়রো ১৯৬ স্কোর এবং তৃতীয় স্থানে নেপালের কাঠমান্ডু ১৭৪ স্কোর নিয়ে অবস্থান করছে। এই শহরগুলোর বায়ু মান আরও বেশি বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের শ্রেণিবিভাগ ও স্বাস্থ্য প্রভাব

একিউআই হলো দৈনিক বায়ু মান রিপোর্ট করার একটি সূচক, যা মানুষকে জানায় যে একটি শহরের বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং এর সাথে সম্পর্কিত স্বাস্থ্য প্রভাবগুলো কী হতে পারে। বাংলাদেশে একিউআই পাঁচটি দূষণকারী পদার্থের উপর ভিত্তি করে গণনা করা হয়: পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম১০ এবং পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২), এবং ওজোন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বায়ু মানের শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী, যখন একিউআই মান ৫০ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকে, তখন বায়ু মান 'মধ্যম' হিসেবে বিবেচিত হয় এবং সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘস্থায়ী বাইরের কার্যক্রম সীমিত করার কথা বিবেচনা করা উচিত। ১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে হলে, বায়ু মান 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' শ্রেণিভুক্ত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে 'অস্বাস্থ্যকর', ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে 'অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর', এবং ৩০১+ স্কোর 'বিপজ্জনক' হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।

ঢাকায় দীর্ঘমেয়াদী বায়ু দূষণের সমস্যা

ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণের সমস্যার সাথে লড়াই করছে। শহরের বায়ু মান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে এবং বর্ষাকালে কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। এই দূষণ জনস্বাস্থ্যের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক সাত মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মৃত্যুগুলোর প্রধান কারণ হলো স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি। ঢাকার মতো শহরগুলোতে এই ঝুঁকি আরও বেশি, যেখানে দূষণের মাত্রা নিয়মিতভাবে অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছায়।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, বায়ু দূষণ কমাতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে যানবাহনের নির্গমন নিয়ন্ত্রণ, শিল্পকারখানার দূষণ কমানো, এবং সবুজায়ন বৃদ্ধি। জনসাধারণকেও সচেতন হতে হবে, বিশেষ করে যখন বায়ু মান অস্বাস্থ্যকর হয়, তখন বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখা এবং মাস্ক ব্যবহারের মতো সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।