বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৩তম
বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা শুক্রবার সকালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ১৩তম স্থান অধিকার করেছে। সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে শহরের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ১২৩ রেকর্ড করা হয়েছে, যা 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' শ্রেণিভুক্ত।
একিউআই স্কেল অনুযায়ী স্বাস্থ্য ঝুঁকি
একিউআই স্কেল অনুসারে, ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে স্কোর 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে বিবেচিত হয়, যার অর্থ এটি দুর্বল ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে স্কোর 'অস্বাস্থ্যকর', ২০১ থেকে ৩০০ 'অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর' এবং ৩০১-এর উপরে স্কোর 'বিপজ্জনক' হিসেবে চিহ্নিত, যা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
শীর্ষ তিন দূষিত শহর
ভারতের দিল্লি, থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই এবং চীনের বেইজিং শীর্ষ তিন দূষিত শহর হিসেবে অবস্থান করছে। দিল্লির একিউআই স্কোর ৩৫২, চিয়াং মাইয়ের ২২৩ এবং বেইজিংয়ের ১৯২ রেকর্ড করা হয়েছে। এই শহরগুলোতে বায়ু দূষণের মাত্রা অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
বাংলাদেশে একিউআই পরিমাপের পদ্ধতি
বাংলাদেশে, এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স পাঁচটি প্রধান দূষণকারী উপাদানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়: পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম১০ এবং পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড এবং ওজোন। একিউআই দৈনিক বায়ুর গুণমান পরিমাপ করে, যা বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত তা এবং জনগণ কী ধরনের স্বাস্থ্য প্রভাব অনুভব করতে পারে তা নির্দেশ করে।
ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী বায়ু দূষণ সমস্যা
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর বায়ু দূষণের সম্মুখীন হচ্ছে। সাধারণত শীতকালে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় এবং বর্ষা মৌসুমে কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, যানবাহনের নির্গমন, নির্মাণ কাজ এবং শিল্পকারখানার দূষণ এই সমস্যাকে ত্বরান্বিত করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় সাত মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই মৃত্যুগুলোর প্রধান কারণ হিসেবে স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র সংক্রমণকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংস্থাটি বায়ু দূষণ কমানোর জন্য জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে।
ঢাকার বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে, বিশেষ করে সংবেদনশীল গোষ্ঠী যেমন শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের সুরক্ষার জন্য।



