ঢাকার বাতাস আজও অস্বাস্থ্যকর, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় অষ্টম
ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর, বিশ্বে অষ্টম

ঢাকার বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় অষ্টম স্থান

আজ সকালেও ঢাকার বাতাস 'অস্বাস্থ্যকর' অবস্থায় রয়েছে, যা নাগরিকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণের স্কোর ১৫৫, যা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ। এই স্কোরের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় অষ্টম অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরগুলোর অবস্থা

আইকিউএয়ারের প্রতিবেদন অনুসারে, সেনেগালের শহর ডাকার ২৯৩ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে, যার বাতাসের মান 'খুব অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে চিহ্নিত। একই সময়ে থাইল্যান্ডের শহর চিয়াং মাই ২৭৬ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, যা 'খুব অস্বাস্থ্যকর' বলে গণ্য হবে। জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন শহরে দিন দিন বায়ুদূষণ বাড়ছে, এবং ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।

আইকিউএয়ার স্কোরের ব্যাখ্যা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

আইকিউএয়ারের স্কোর ব্যবস্থা অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোর ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়, ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি, এবং ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে 'অস্বাস্থ্যকর' বায়ু বলে মনে করা হয়, যা ঢাকার বর্তমান অবস্থার সাথে মিলে যায়। ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোর 'খুব অস্বাস্থ্যকর' এবং ৩০১ থেকে ৪০০ 'ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বায়ুদূষণ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে, যা সব বয়সি মানুষের জন্য ক্ষতিকর। তবে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য এটি বিশেষভাবে বিপজ্জনক। অস্বাস্থ্যকর বায়ুর অবস্থায় শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বায়ুদূষণের কারণ ও প্রভাব

সাধারণত একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি ধরনকে ভিত্তি করে, যেমন বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)। এই দূষণকারী পদার্থগুলো নগরবাসীর জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যার মধ্যে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও ক্যান্সারের মতো রোগ অন্তর্ভুক্ত। ঢাকার মতো মেগাসিটিতে যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং নির্মাণকাজের ধুলা বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে।

এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বন এবং কর্তৃপক্ষের কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্য, যাতে ঢাকার বাতাসের মান উন্নত হয়ে নাগরিকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।