মিরপুর চিড়িয়াখানায় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর আকস্মিক পরিদর্শন
মিরপুর চিড়িয়াখানায় প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন

মিরপুর চিড়িয়াখানায় প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি শুক্রবার (২৭ মার্চ) সাধারণ দর্শনার্থীর মতো টিকিট কেটে মিরপুরের বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন। সকাল ১১টা ১০ মিনিটে শুরু হওয়া এই পরিদর্শনে তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চিড়িয়াখানার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং সরেজমিনে অবস্থা মূল্যায়ন করেন।

পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম

পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য ছিল চিড়িয়াখানার পরিবেশ, ব্যবস্থাপনা এবং কোনো সম্ভাব্য ত্রুটি চিহ্নিত করা। প্রতিমন্ত্রী প্রথমে প্রাণী পুষ্টি শাখা পরিদর্শন করে খাদ্যের মান ও পরিমাণ যাচাই করেন। এরপর তিনি খাঁচা, প্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্র এবং ওষুধ সংরক্ষণাগার ঘুরে দেখেন। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি সার্বিক পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার খোঁজখবর নেন।

এ সময় তিনি দর্শনার্থীদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে জানতে চান। রাজধানী ও আশপাশের জেলা থেকে আসা হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়ে চিড়িয়াখানার প্রতিটি এলাকা মুখর ছিল। পরিবার-পরিজন ও শিশুদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা ও পরিকল্পনা

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। তিনি বেদখল হওয়া চিড়িয়াখানার প্রায় ৭ একর জমি দ্রুত পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পাবলিক টয়লেট বৃদ্ধি, দর্শনার্থীদের বসার স্থান সম্প্রসারণ, রাস্তাঘাট মেরামত, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং পশুপাখির সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান বাজেটের মধ্যেই দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ শুরু করতে হবে। তিনি বলেন, 'কাউকে না জানিয়ে আমার ছেলেকে নিয়ে এখানে এসেছি, যাতে প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায়। পরিচ্ছন্নতা, বসার ব্যবস্থা ও দর্শনার্থীদের সুবিধা বাড়াতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন কিছু প্রাণী আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।'

তিনি আরও যোগ করেন, প্রাণীদের খাদ্য সরবরাহ সন্তোষজনক হলেও দর্শনার্থীরা আরও উন্নত পরিবেশ প্রত্যাশা করেন। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 'আমরা এই চিড়িয়াখানাকে আরও সংগঠিতভাবে পরিচালনা করতে চাই। এটি একটি সম্ভাবনাময় প্রকল্প। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে পারলে এটি লাভজনক ও দর্শনার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে,' বলেন তিনি।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমান জানান, প্রতিমন্ত্রী আকস্মিকভাবে এসে নিজেই বিভিন্ন বিষয় তদারকি করেছেন। তিনি প্রাণীদের খাদ্য, ওজন ও পরিচর্যার বিষয় সরেজমিনে যাচাই করেন। পরিদর্শনকালে কিছু স্থানে পরিচ্ছন্নতা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য বিশ্রামাগার ও বসার স্থান বাড়ানোর তাগিদ দেন।

ডা. আতিকুর রহমান বলেন, এসব নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. আবুবকর সরকার, চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।