বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা দশম স্থানে
বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা শনিবার সকালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় দশম স্থান অধিকার করেছে। সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে শহরের বায়ু মান সূচক (একিউআই) ১১৫ রেকর্ড করা হয়েছে, যা একটি উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে।
বায়ু মান সূচকের শ্রেণীবিভাগ ও স্বাস্থ্য প্রভাব
শনিবারের বায়ুকে "সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর" হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। বায়ু মান সূচকের মাপকাঠি অনুযায়ী, ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরের মধ্যে থাকা বায়ু এই বিভাগে পড়ে। একিউআই স্তরগুলোর বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:
- ১০১–১৫০: সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর
- ১৫১–২০০: অস্বাস্থ্যকর
- ২০১–৩০০: অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর
- ৩০১-এর উপরে: বিপজ্জনক
বায়ু মান সূচক দৈনিক বায়ুর গুণমান প্রতিবেদন করে, যা বাসিন্দাদের জানায় বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্য প্রভাবগুলো তুলে ধরে।
শীর্ষ দূষিত শহরগুলোর অবস্থান
ভারতের দিল্লি, থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই এবং মিশরের কায়রো এই তালিকার প্রথম তিনটি স্থান দখল করেছে। তাদের বায়ু মান সূচক স্কোর যথাক্রমে ২৫৪, ২২৩ এবং ২০০ রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকার তুলনায় এই শহরগুলোর বায়ু দূষণের মাত্রা অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
বাংলাদেশে বায়ু মান সূচক পরিমাপের পদ্ধতি
বাংলাদেশে বায়ু মান সূচক পাঁচটি প্রধান দূষণকারী উপাদানের ভিত্তিতে গণনা করা হয়। এই উপাদানগুলো হলো:
- বস্তুকণা (পিএম১০ এবং পিএম২.৫)
- নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২)
- কার্বন মনোক্সাইড (সিও)
- সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২)
- ওজোন
ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী বায়ু দূষণ সমস্যা
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণের সমস্যার সাথে লড়াই করছে। শহরের বায়ুর গুণমান সাধারণত শীতকালে খারাপ হয় এবং বর্ষা মৌসুমে কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। এই ঋতুগত পরিবর্তন শহরের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলোর একটি নিয়মিত দিক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অনুমান অনুযায়ী, বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় সাত মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই মৃত্যুগুলোর প্রধান কারণগুলো হলো:
- স্ট্রোক
- হৃদরোগ
- ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ
- ফুসফুস ক্যান্সার
- তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ
এই পরিসংখ্যান বায়ু দূষণের মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করে, যা কেবল স্থানীয় নয় বরং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করেছে।



