জ্বালানি সংকটে ইজিবাইকে বরযাত্রা, খাগড়াছড়িতে বিয়ে করতে ২৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি
জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের মধ্যে ভাড়ার গাড়ি না পেয়ে ইজিবাইকে করে ২৮ কিলোমিটার দূরের কনের বাড়িতে গিয়েছেন বর শাহিন আলম। আজ শুক্রবার সকালে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় এই অভিনব ঘটনা ঘটে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও আকারে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বিয়ের দিনে যানবাহন সংকট
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের মধ্যম বেতছড়ি এলাকার বাসিন্দা শাহিন আলমের বিয়ের দিন আজ। কিন্তু জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাবে ভাড়ায় চালিত কার বা মাইক্রোবাস তেমন মিলছিল না। যেসব গাড়ি পাওয়া যাচ্ছিল, সেগুলোর ভাড়া চাওয়া হচ্ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি। এমন পরিস্থিতিতে বর শাহিন আলম ঝুঁকি নিয়ে ইজিবাইকে করে কনের বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ইজিবাইকে ১৫ জন বরযাত্রী
শাহিন আলম তিনটি ইজিবাইকে করে মোট ১৫ জন বরযাত্রী নিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের উত্তর গঞ্জপাড়া এলাকায় অবস্থিত কনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। ভিডিওতে দেখা যায়, বিয়ের সাজে সজ্জিত বর একটি ইজিবাইকে বসে আছেন, পাশে রয়েছেন তাঁর আত্মীয়স্বজন। আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে তারা কনের বাড়ির দিকে যাত্রা শুরু করেন।
বর শাহিন আলম জানান, "কনের বাড়ি আমার গ্রাম থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে। এই দূরত্বে যেতে প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাস ভাড়ার চেষ্টা করেও পাইনি। তাই পাহাড়ি পথে ঝুঁকি জেনেও ইজিবাইকে করে কনের বাড়িতে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।"
সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ইজিবাইকে বরযাত্রার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেছেন, সংকট মোকাবিলায় এটি একটি সৃজনশীল সমাধান। আবার কেউ কেউ নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে চিন্তিতও হয়েছেন।
জ্বালানি সংকটের পটভূমি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির বিশ্ববাজারে অস্থিরতা কাটছে না, যা বাংলাদেশেও প্রভাব ফেলছে। দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোয় চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল মিলছে না, ফলে ক্রেতাদের দীর্ঘ সারিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোনো কোনো ফিলিং স্টেশনে তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় বিক্রি বন্ধ থাকছে, যা দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে।
এই ঘটনা শুধু একটি বিয়ের গল্পই নয়, বরং এটি দেশের জ্বালানি সংকটের কঠিন বাস্তবতাকেও তুলে ধরে। খাগড়াছড়ির মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই সংকট আরও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে, যেখানে পরিবহন বিকল্প সীমিত।



