বান্দরবানে হরিণ শিকার ও মাংস বিক্রির চেষ্টায় যুবকের কারাদণ্ড ও জরিমানা
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় হরিণ শিকার ও মাংস বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে এক মাসের কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা জরিমানা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজুর আলম এই রায় ঘোষণা করেন।
অভিযুক্ত যুবকের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ
সাজাপ্রাপ্ত যুবকের নাম নুরুল হাকিম, যার বয়স ৩০ বছর। তিনি আলীকদম উপজেলা সদরের নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, নুরুল হাকিম কুরুকপাতা ইউনিয়নের মাতামুহুরী সংরক্ষিত প্রাকৃতিক বনাঞ্চল থেকে হরিণ শিকার করেছিলেন।
সেখান থেকে প্রায় ১০ কেজি হরিণের মাংস সংগ্রহ করে তিনি আলীকদম উপজেলা সদরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে সেনা জোনের একটি চেকপোস্টে তিনি ধরা পড়েন। পরে এই মাংসসহ তাঁকে বন বিভাগ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে সেনাবাহিনী।
মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গুরুত্ব ও হুমকি
মাতামুহুরী সংরক্ষিত প্রাকৃতিক বনাঞ্চলটি প্রায় ১ লাখ ২ হাজার একর জুড়ে বিস্তৃত এবং আলীকদম উপজেলার মিয়ানমারের সীমান্তঘেঁষা এলাকায় অবস্থিত। এটি বন বিভাগের অধিভুক্ত সংরক্ষিত প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা।
বন বিভাগের মাতামুহুরী রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল মালেক বলেন, "এই বনাঞ্চল এখনো টিকে থাকার কারণে হরিণ, কচ্ছপ, ভালুক, চম্বর হরিণসহ নানা প্রজাতির বন্য প্রাণী এখানে বাস করে। তবে নানান কারণে ধীরে ধীরে এ বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে, যা বন্য প্রাণীদের জন্য হুমকিস্বরূপ।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এসব বন্য প্রাণী রক্ষায় আরও নজরদারি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
আদালতের রায় ও আইনগত দিক
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজুর আলম বলেন, "বন্য প্রাণী শিকার একটি গুরুতর অপরাধ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করে। নুরুল হাকিম হরিণ শিকার ও মাংস বহনের অভিযোগ স্বীকার করেছেন, তাই তাঁকে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের ১১ ধারায় সাজা দেওয়া হয়েছে।"
এই সাজা শুধুমাত্র আইন ভঙ্গের জন্য নয়, বরং বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও বনাঞ্চল রক্ষায় একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও কাজ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।



