বৃষ্টির পরও কমেনি ঢাকার বায়ুদূষণ, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থান
বৃষ্টির পরও ঢাকার বায়ুদূষণ কমেনি, বিশ্বে ষষ্ঠ

বৃষ্টির পরও ঢাকার বায়ুদূষণ কমেনি, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থান

বিশ্বের বিভিন্ন শহরে দিন দিন বায়ুদূষণ বেড়েই চলছে, এবং মেগাসিটি ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে এই সংকটের মধ্যে রয়েছে। সাধারণত বৃষ্টিপাত হলে দূষণের মাত্রা কিছুটা কমে, কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টির পরও শহরটিতে দূষণের মাত্রা কমেনি।

আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্য

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, ঢাকার বায়ুমানের স্কোর ১৬৭, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে রাজধানী। গত বুধবার একই সময়ে ঢাকার বায়ুমানের স্কোর ছিল ১৬৩, যা ইঙ্গিত করে যে দূষণের মাত্রা সামান্য বেড়েছে।

বিশ্বের অন্যান্য শহরের অবস্থা

তালিকার শীর্ষে রয়েছে চীনের বেইজিং, যার বায়ুমানের স্কোর ২২৯ এবং এটি ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। দ্বিতীয় অবস্থানে ভারতের দিল্লি, স্কোর ২০৮, যা একই শ্রেণিতে পড়ে। তৃতীয় স্থানে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই ১৭৫, চতুর্থে চীনের হাংজু ১৭০, পঞ্চমে নেপালের কাঠমান্ডু ১৬৯, সপ্তমে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন ১৬৩ এবং অষ্টমে চীনের উহান ১৫৩—এসব শহরের বায়ুমান ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

একিউআই স্কোরের ব্যাখ্যা

একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়, এবং এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

ঢাকার বর্তমান স্কোর ১৬৭, যা স্পষ্টভাবে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরিতে পড়ে, এবং এটি শহরের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বৃষ্টির পরও দূষণ কমার কারণ হিসেবে শিল্পকারখানা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণকাজের মতো স্থানীয় উৎসগুলোকে দায়ী করা যেতে পারে।