নেপলস উপসাগরের গভীরে প্রাচীন প্রবালপ্রাচীরের বিস্ময়কর আবিষ্কার
ইতালির দক্ষিণ উপকূলীয় নেপলস উপসাগরের গভীর তলদেশে এক বিস্ময়কর জগতের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সমুদ্রপৃষ্ঠের ৫০০ মিটারের বেশি নিচে বিশাল আকারের প্রাচীন প্রবালপ্রাচীরের খোঁজ মিলেছে, যা এত দিন মানুষের চোখের আড়ালে ছিল। এই গভীর সমুদ্রতলে এমন এক সমৃদ্ধ ইকোসিস্টেম লুকিয়ে আছে, যা এই অঞ্চলের সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় নতুন দিকনির্দেশনা দেবে বলে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী।
প্রবালপ্রাচীরের বিশালতা ও বৈশিষ্ট্য
পানির নিচে থাকা একটি খাড়া পাহাড়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে প্রবালপ্রাচীরটি, যার উচ্চতা প্রায় ৮০ মিটার বা ২৬২ ফুট। সিএনআর ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের বিজ্ঞানী জর্জিও কাস্তেলান ডুবো ড্রোন বা রোবটের পাঠানো ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, কিছু প্রবাল কাঠামো ১ দশমিক ৮ মিটারের বেশি চওড়া। ডেসমোফাইলাম ও ম্যাডরেপোরা প্রজাতির প্রবালগুলো বিচ্ছিন্নভাবে না থেকে বড় বড় তাক বা শেলফ আকারে অবস্থান করছে, যা তাদের স্থায়িত্ব ও বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
গভীর সমুদ্রের অনন্য পরিবেশ ও বেঁচে থাকার কৌশল
সমুদ্রের এই গভীর স্তরে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, ফলে এখানকার কোল্ড ওয়াটার প্রবাল শেওলার ওপর নির্ভর না করে সমুদ্রের স্রোতে ভেসে আসা খাবার সংগ্রহের মাধ্যমে বেঁচে থাকে। ক্যানিয়নের খাড়া দেয়ালগুলো পানির স্রোতকে ত্বরান্বিত করে, ফলে প্রবালগুলোর কাছে পর্যাপ্ত খাবার পৌঁছায় এবং কাদার আস্তরণ জমে ছোট প্রবালগুলো শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায় না। গবেষণা চলাকালে ক্যানিয়নের দেয়ালে প্রাচীন ঝিনুকের খোলস ও মৃত প্রবালের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে, যা কয়েক প্রজন্ম ধরে সেখানে জমা হয়েছে, এটি এই ইকোসিস্টেমের দীর্ঘ ইতিহাসের প্রমাণ।
ঝুঁকি ও সংরক্ষণের উদ্যোগ
এত সৌন্দর্য সত্ত্বেও গভীর সমুদ্রে থাকা বিভিন্ন প্রবালপ্রাচীর বর্তমানে বড় ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রের তলদেশে মাছ ধরার সরঞ্জাম এবং মানুষের ফেলে দেওয়া বর্জ্য ও প্লাস্টিকের কারণে প্রবালপ্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর তাই প্রবালপ্রাচীরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নেপলসের বিজ্ঞানীরা ইকো–রিফ নামের কৃত্রিম কাঠামো স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করেছেন, যা প্রাকৃতিক প্রবালের বিকল্প হিসেবে কাজ করে পরিবেশ রক্ষায় সহায়তা করবে।
এই আবিষ্কার সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। গভীর সমুদ্রের এই রহস্যময় জগত সম্পর্কে আরও গবেষণা চলমান রয়েছে, যা ভবিষ্যতে নতুন তথ্য ও অন্তর্দৃষ্টি দিতে পারে।



