বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে
বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা মঙ্গলবার সকালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় চতুর্থ স্থান দখল করেছে। সকাল ৯টা ৫৬ মিনিটে শহরের বায়ু মান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ১৫৫ রেকর্ড করা হয়েছে, যা 'অস্বাস্থ্যকর' শ্রেণিভুক্ত। এই শ্রেণিবিন্যাস গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি নির্দেশ করে, একিউআই প্রতিবেদন অনুযায়ী।
শীর্ষ দূষিত শহরগুলোর অবস্থান
ভারতের দিল্লি, চীনের বেইজিং এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। এই শহরগুলোর একিউআই স্কোর যথাক্রমে ২০৫, ১৮০ এবং ১৬৩ রেকর্ড করা হয়েছে। একিউআই স্কেল অনুসারে, ৫০ থেকে ১০০ পর্যন্ত রিডিং 'মধ্যম' হিসেবে বিবেচিত হয়, যা সাধারণত গ্রহণযোগ্য বায়ু মান নির্দেশ করে, তবে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘস্থায়ী বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখা উচিত।
একিউআই স্কেলের বিস্তারিত ব্যাখ্যা
বায়ু মান সূচকের মাত্রা ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত মাত্রা 'অস্বাস্থ্যকর' বিবেচিত হয়, যেখানে ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত 'অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর' এবং ৩০১-এর উপরের রিডিং 'বিপজ্জনক' হিসেবে চিহ্নিত হয়, যা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে। দৈনিক বায়ু মান প্রতিবেদনকারী একিউআই বাসিন্দাদের জানায় যে বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্য প্রভাবগুলো তুলে ধরে।
বাংলাদেশে একিউআই গণনার পদ্ধতি
বাংলাদেশে, বায়ু মান সূচক পাঁচটি প্রধান দূষণকারী উপাদানের ভিত্তিতে গণনা করা হয়: কণা পদার্থ (পিএম১০ এবং পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন। ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণের সাথে সংগ্রাম করে আসছে। শহরের বায়ু মান সাধারণত শীতকালে অবনতি ঘটে এবং বর্ষা মৌসুমে উন্নতি লাভ করে।
বায়ু দূষণের বৈশ্বিক প্রভাব
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অনুমান অনুযায়ী, বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় সাত মিলিয়ন মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই মৃত্যুগুলো প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুস ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে ঘটে। ঢাকার বায়ু মানের এই অবনতি শহরের বাসিন্দাদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে শীতকালীন মাসগুলোতে যখন দূষণের মাত্রা চরমে পৌঁছায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যানবাহনের নির্গমন, শিল্পকারখানার দূষণ, নির্মাণ কাজের ধুলা এবং আবর্জনা পোড়ানো ঢাকার বায়ু দূষণের প্রধান উৎস। শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং নগরায়নের চাপ এই সমস্যাকে আরও তীব্র করে তুলছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বায়ু মান পর্যবেক্ষণ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মত দিচ্ছেন পরিবেশবিদরা।
একিউআই প্রতিবেদন নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হলে শহরবাসী তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিকল্পনা করতে পারেন এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেন। বায়ু দূষণ কমানোর জন্য সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।



