কক্সবাজারে একদিনে ১৬টি কাছিমের ১,৭৩৩টি ডিম: সংরক্ষণে কোডেকের সাফল্য
কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে সাম্প্রতিক সময়ে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকে, একদিনে মোট ১৬টি অলিভ রিডলে প্রজাতির কাছিম সৈকতে এসে ১ হাজার ৭৩৩টি ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার পর এই কাছিমগুলো আবার নিরাপদে সাগরে ফিরে যায়, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত।
কোডেক প্রকল্পের মাধ্যমে ডিম সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
এই ডিমগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে কমিউনিটি-লেড টার্টল কনজারভেশন (কোডেক) প্রকল্প। টেকনাফ উপকূলে স্থাপিত পাঁচটি হ্যাচারির মাধ্যমে ডিমগুলো সফলভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে। কোডেকের এই উদ্যোগ শুধু কাছিমের ডিম সংরক্ষণই নয়, বরং পুরো সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
চলতি মৌসুমের অর্জন ও সাফল্য
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত কোডেক প্রকল্পের আওতায় ১১৬টি কাছিম থেকে মোট ১৩ হাজার ৯০০টি ডিম সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়াও, ৫৫০টি কাছিমের বাচ্চা সফলভাবে সমুদ্রে অবমুক্ত করা হয়েছে, যা প্রকৃতি সংরক্ষণের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ।
লিয়াকত আলীর বক্তব্য ও পরিবেশ সুরক্ষার আহ্বান
কমিউনিটি-লেড টার্টল কনজারভেশন (কোডেক) প্রকল্পের উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলে দায়িত্বরত লিয়াকত আলী জানান, "সামুদ্রিক কাছিম সংরক্ষণ শুধু একটি প্রাণী রক্ষার উদ্যোগ নয়; এটি পুরো সামুদ্রিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ।" তিনি আরও বলেন, সবাইকে এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত হয়ে আমাদের সমুদ্র ও প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখতে এগিয়ে আসতে হবে।
এই প্রচেষ্টা কক্সবাজারের স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে আরও শক্তিশালী হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



