পানির জন্য পাহাড়ি পথে বীরবালা ত্রিপুরার দৈনিক সংগ্রাম
পাহাড়ে পানির কষ্ট: বীরবালা ত্রিপুরার জীবনযুদ্ধ

পাহাড়ি গ্রামে পানির তীব্র সংকট: বীরবালা ত্রিপুরার প্রতিদিনের যুদ্ধ

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার দুর্গম লোগাং ইউনিয়নের কাশিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বীরবালা ত্রিপুরার (৫১) দিন শুরু হয় পানির চিন্তা নিয়ে। এই চিন্তা তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী, কিন্তু শুকনো মৌসুম, বিশেষ করে ফাল্গুন-চৈত্র মাসে, এই কষ্ট চরমে পৌঁছে যায়।

দুর্গম পথে পানির সন্ধানে

ভোর না হতেই বীরবালা কাঁধে কলসি নিয়ে বের হন পাহাড়ি পথে। তাঁকে দুটি পাহাড় ডিঙিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হয় একটি ছোট পাহাড়ি ছড়া বা ঝরনার কাছে। কাশিপাড়া গ্রামের ৪৩টি পরিবারের মতো তাঁর পরিবারও এই ছড়ার পানির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।

বীরবালা ত্রিপুরা বলেন, "প্রতিদিন তিন থেকে চারবার আমাকে পানির জন্য যেতে হয়। পাহাড়ি পথ বেয়ে যাওয়া-আসা করতে করতে দিনের অনেকটা সময়ই চলে যায়। সকালে পানি আনতে গিয়ে ফিরতে ফিরতে বেলা হয়ে যায়।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শুষ্ক মৌসুমে আরও ভয়াবহ অবস্থা

ছড়ার পাড়ে একটি ছোট গর্ত করে কুয়ার মতো করে পানি জমা করা হয়। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে ছড়ার পানি প্রায় শুকিয়ে যায়। ফলে ধীরে ধীরে জমা হওয়া সামান্য পানির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় এই পানিতে পোকামাকড় ও ময়লাও ভাসতে দেখা যায়, তবুও গ্রামবাসীদের সেই পানিই ব্যবহার করতে হয়।

বীরবালা ত্রিপুরা জানান, সারা দিন কুয়ার পাশে মানুষের ভিড় থাকে। তাই অনেক নারী সন্ধ্যার পর হারিকেন বা কুপি জ্বালিয়ে গোসল করতে যান, যা নিরাপত্তাহীনতা ও অসুবিধা বাড়িয়ে তোলে।

পরিবেশগত পরিবর্তন ও গবেষণা

২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে পাহাড়ের ৭১টি ঝরনার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াটারএইড। তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, তিনটি বাদে সব কটির প্রবাহ কমে গেছে। এই গবেষণার তথ্য বীরবালা বা কাশিপাড়া গ্রামের মানুষদের জানা নেই। তাঁরা শুধু টের পান চোখের সামনে বন বিনাশ হয়ে যাওয়া, আর অনুভব করেন পানির ক্রমবর্ধমান কষ্ট।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই পরিস্থিতি শুধু কাশিপাড়া গ্রামেই নয়, পার্বত্য অঞ্চলের অনেক দুর্গম এলাকায় পানির সংকট একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে এই সংকটের কারণে।