বরগুনায় আহত ঈগলছানার উদ্ধার ও সেবা, কিশোর হৃদয়ের স্নেহে সুস্থ হয়ে উঠছে
বরগুনায় আহত ঈগলছানার উদ্ধার, কিশোরের সেবায় সুস্থ

বরগুনায় আহত ঈগলছানার উদ্ধার ও সেবা, কিশোর হৃদয়ের স্নেহে সুস্থ হয়ে উঠছে

বরগুনা সদর উপজেলায় একটি আহত ঈগলের বাচ্চাকে উদ্ধার করে স্থানীয় কিশোর হৃদয় সেবা-শুশ্রূষা দিয়ে সুস্থ করে তুলেছে। প্রায় এক সপ্তাহ আগে সামাজিক বন থেকে আহত অবস্থায় পাখিটিকে উদ্ধার করা হয়। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ঈগলছানাটি এখন অল্প অল্প উড়তে পারে এবং আগামী সপ্তাহে বিষখালী নদীতে জেগে ওঠা টুলুর চরে এটিকে অবমুক্ত করা হবে।

কিশোরের সেবায় ঈগলছানার সুস্থতা

বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া এলাকার কয়েকজন কিশোর সামাজিক বনে ঘুরতে গিয়ে ঈগলের বাচ্চাটিকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। হৃদয় নামের কিশোর পাখিটিকে বাড়িতে নিয়ে আসে এবং এক সপ্তাহ ধরে খাবার ও চিকিৎসা দিয়ে সেটিকে সুস্থ করে তোলে। বিষয়টি হৃদয়ের পরিবার বন বিভাগের কর্মকর্তাদের জানায়।

বন বিভাগের বরগুনার সদর উপজেলা রেঞ্জ কার্যালয়ের রেঞ্জ সহকারী এম এ হাসান বলেন, ‘আহত অবস্থায় স্থানীয় জঙ্গল থেকে ঈগলের বাচ্চাটিকে এক কিশোর উদ্ধার করে বাড়িতে এনে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। আমরা নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি। পাখিটি এখন সুস্থ। ভালো করে উড়তে পারলে এটিকে বিষখালী নদীতে জেগে ওঠা টুলুর চরে অবমুক্ত করা হবে।’

পাখির দৈনন্দিন জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ঈগলছানাটি এখন বাড়ির আঙিনায় ছোটাছুটি করে এবং কখনো উড়ে গাছের ডালে গিয়ে বসে থাকে। ক্ষুধা লাগলে আবার ফিরে আসে। বন বিভাগের লোকজন ঈগলছানাটিকে হৃদয়ের কাছে রেখে সেবা দিচ্ছেন এবং এটিকে খাবার হিসেবে মাছ খেতে দেওয়া হয়। হৃদয় বলেন, ‘আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে জঙ্গলে ঘুরতে যাই। সেখানে ঈগলের বাচ্চাটিকে আহত অবস্থায় দেখতে পেয়ে আমি এটিকে বাড়িতে নিয়ে আসি। সেবা দিয়ে পাখিটিকে সুস্থ করা হয়েছে। প্রতিদিন এটিকে বিভিন্ন জাতের মাছ খেতে দেওয়া হয়। পাখিটা বাড়িতে ছাড়া অবস্থায়ই থাকে। কখনো গাছের ডালে, কখনো ঘরের চালায় উড়ে গিয়ে বসে থাকে। ভালো করে উড়তে পারলেই এটিকে আবার বনে ছেড়ে দেওয়া হবে। এটি আমাদের পরিবারের সদস্য এখন। বাবাও পাখিটির সেবা করে, খাবার এনে দেয়।’

বন বিভাগের কর্মকর্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, বরগুনায় কোনো রেসকিউ সেন্টার না থাকার কারণে আহত, অসুস্থ বন্য প্রাণী ও পোষা প্রাণীদের উদ্ধার করে আনা হলেও চিকিৎসা, শুশ্রূষা দেওয়া সম্ভব হয় না। এই ঘটনাটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের সচেতনতা ও সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।