বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৮তম, এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৮২
বিশ্বের দূষিত শহরে ঢাকা ১৮তম, এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৮২

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৮তম

বুধবার সকালে ঢাকা শহর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ১৮তম স্থান অধিকার করেছে। সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে রেকর্ড করা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ছিল ৮২। বাংলাদেশের এই ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী শহরের বায়ু 'মডারেট' বা মাঝারি মানের হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হয়েছে।

একিউআই রিপোর্টে কী বলা হয়েছে?

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স রিপোর্ট অনুযায়ী, ঢাকার বায়ু সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য মাত্রায় রয়েছে, তবে অস্বাভাবিকভাবে সংবেদনশীল কিছু ব্যক্তির জন্য সামান্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় সাত মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে।

শীর্ষ দূষিত শহরগুলোর তালিকা

ভারতের দিল্লি, পাকিস্তানের লাহোর এবং করাচি শহর যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান দখল করেছে। এই শহরগুলোর একিউআই স্কোর ছিল যথাক্রমে ২০৩, ১৬০ এবং ১৫৭। একিউআই স্কেল অনুযায়ী, ৫০ থেকে ১০০ পর্যন্ত রিডিং 'মডারেট' হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে বায়ুর মান সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য, তবে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘস্থায়ী বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখা উচিত।

একিউআই স্কেলের শ্রেণিবিভাগ

  • ৫০-১০০: মডারেট (সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য)
  • ১০১-১৫০: সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর
  • ১৫১-২০০: অস্বাস্থ্যকর
  • ২০১-৩০০: অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর
  • ৩০১ এর উপরে: বিপজ্জনক (গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি)

বাংলাদেশে একিউআই গণনা পদ্ধতি

বাংলাদেশে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স পাঁচটি প্রধান দূষণকারী পদার্থের ভিত্তিতে গণনা করা হয়: পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম১০ এবং পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন। দৈনিক বায়ুর মান রিপোর্ট করার মাধ্যমে একিউআই বাসিন্দাদের জানায় যে বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্য প্রভাবগুলো তুলে ধরে।

ঢাকার বায়ু দূষণের চিত্র

ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণের সাথে সংগ্রাম করে আসছে। শহরের বায়ুর মান সাধারণত শীতকালে খারাপ হয় এবং বর্ষা মৌসুমে উন্নতি দেখা যায়। বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

বিশ্বব্যাপী শহরগুলোর মধ্যে বায়ু দূষণের এই তুলনামূলক বিশ্লেষণ আমাদের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলোর মাত্রা সম্পর্কে সচেতন করে। ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বায়ু মান পর্যবেক্ষণ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।