বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ঢাকা
সোমবার সকালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম স্থান দখল করেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। সকাল ৮টা ১৩ মিনিটে শহরের বায়ুর মান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) রেকর্ড করা হয়েছে ১৬৭, যা 'অস্বাস্থ্যকর' শ্রেণিভুক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যান্য শহরের অবস্থান
দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিওন শহর ১৬৪ একিউআই স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন শহর, যার স্কোর ১৬১। চতুর্থ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল, যার একিউআই স্কোর ১৫৮।
একিউআই স্কেলের ব্যাখ্যা
বায়ুর মান সূচকের স্কেল অনুযায়ী, ৫০ থেকে ১০০ পর্যন্ত রিডিং 'মাঝারি' হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে বায়ুর মান সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য হলেও সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা সীমিত করা উচিত। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে চিহ্নিত। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর 'অস্বাস্থ্যকর' শ্রেণিভুক্ত, ২০১ থেকে ৩০০ 'অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর', এবং ৩০১-এর উপরের রিডিং 'বিপজ্জনক' হিসেবে বিবেচিত হয় যা গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।
বাংলাদেশে একিউআই পরিমাপ
বাংলাদেশে বায়ুর মান সূচক পাঁচটি প্রধান দূষণকারী উপাদানের ভিত্তিতে গণনা করা হয়: পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম১০ এবং পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২), এবং ওজোন। দৈনিক বায়ুর মান প্রতিবেদনকারী এই সূচকটি বাসিন্দাদের জানায় যে বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্য প্রভাবগুলো তুলে ধরে।
ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী বায়ুদূষণ সমস্যা
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের সমস্যার সাথে সংগ্রাম করছে। শহরের বায়ুর মান সাধারণত শীতকালে খারাপ হয় এবং বর্ষা মৌসুমে কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অনুমান অনুযায়ী, বায়ুদূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় সাত মিলিয়ন মৃত্যুর কারণ হয়, প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও বৈশ্বিক প্রভাব
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, বায়ুদূষণ বিশ্বব্যাপী একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বায়ুদূষণ সম্পর্কিত রোগব্যাধি নিয়মিতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে শহুরে এলাকাগুলোতে। ঢাকার মতো মেগাসিটিগুলোতে এই সমস্যা আরও প্রকট, যেখানে যানবাহনের নির্গমন, শিল্পকারখানার দূষণ এবং নির্মাণ কাজের ধুলা বায়ুর মানকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক পদক্ষেপ প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে:
- পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি
- শিল্পকারখানার দূষণ নিয়ন্ত্রণ
- সবুজায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন
- সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম
ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য।



