সুন্দরবনের নদ-নদীর জীবন্ত সত্তা ফিরিয়ে আনবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী ড. ফরিদ
বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম ঘোষণা দিয়েছেন যে, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার সমস্ত নদ-নদীর জীবন্ত সত্তা পুনরুদ্ধার করা হবে। তিনি শনিবার দুপুরে বাগেরহাটের মোংলার কানাইনগরে পশুর নদীর পাড়ে আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবসের আলোচনা সভায় এই প্রতিশ্রুতি দেন।
দূষণ রোধ ও অবৈধ বাঁধ অপসারণের উদ্যোগ
ড. ফরিদ বলেন, নদী একটি জীবন্ত সত্তা, এবং সুন্দরবনের প্রাণ পশুর নদীতে কয়লা দূষণ, প্লাস্টিক-পলিথিন ও শিল্প দূষণ রোধ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, পশুর নদীর প্লাবন ভূমিতে সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী শতাধিক নদী-খালের অবৈধ বাঁধ দ্রুত অপসারণ করা হবে। সরকারের খাল খননের অগ্রাধিকার প্রকল্পের মাধ্যমে এসব নদী-খালের পানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে, যা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীগণ
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন:
- মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সুমী
- মোংলা সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম
- উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নওসীনা আফরিন
- উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম
- সাবেক পৌর মেয়র মো. জুলফিকার আলী
- উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি
- সুন্দরবন রক্ষায় 'আমরা'র সমন্বয়কারী পরিবেশযোদ্ধা মো. নূর আলম শেখ প্রমুখ।
এর আগে, প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে একটি র্যালি অনুষ্ঠিত হয়, যা পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
সুন্দরবনের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সুন্দরবন একটি বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা হিসেবে পরিচিত, এবং এর সুরক্ষা সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। ড. ফরিদের বক্তব্যে জোর দেওয়া হয়েছে যে, নদী দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ কাঠামো অপসারণের মাধ্যমে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা হবে। এই উদ্যোগগুলি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, কারণ সুন্দরবন কার্বন শোষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।
সরকারের এই পদক্ষেপগুলি স্থানীয় সম্প্রদায়, পরিবেশবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সুন্দরবনের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
