কক্সবাজার সৈকতে ভেসে এলো মৃত ডলফিন, পরিবেশে দুর্গন্ধের আশঙ্কা
কক্সবাজার সৈকতে মৃত ডলফিন, পরিবেশে দুর্গন্ধ

কক্সবাজার সৈকতে মৃত ডলফিনের উপস্থিতি: পরিবেশগত উদ্বেগ বৃদ্ধি

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে একটি বড় আকৃতির মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে, যা স্থানীয় পরিবেশে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আজ শনিবার বেলা দেড়টার দিকে জোয়ারের পানিতে এই ডলফিনটি সৈকতে ভেসে আসে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত বালুচরে পড়ে থাকে।

ডলফিনের অবস্থা ও সম্ভাব্য কারণ

সি-সেফ লাইফ গার্ডের কর্মী জয়নাল আবেদীন জানান, ছয় ফুট লম্বা অর্ধগলিত ডলফিনটির মুখের অংশ কিছুটা ঠিক থাকলেও পেট থেকে লেজের দিকের অংশ পচে গেছে, যার ফলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। লাইফগার্ড সুপারভাইজার সিফাত সাইফুল্লাহর মতে, ধারণা করা হচ্ছে কয়েক দিন আগে গভীর সাগরে বিচরণের সময় ডলফিনটি বড় কোনো জাহাজ বা মাছ ধরার ট্রলিং জাহাজের প্রপেলারে ধাক্কা খেয়ে মারা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পূর্বের ঘটনা

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা বলেন, এটি ইরাবতী জাতের ডলফিন, যার ওজন ৩-৪ মণ হতে পারে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, বিকৃত ডলফিন থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধ পর্যটক ও সাধারণ মানুষের অস্বস্তি বাড়াতে পারে এবং দ্রুত মাটিতে পুঁতে ফেলা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, গত ছয় দিন আগে কুতুবদিয়া সৈকতে একটি মৃত তিমি ভেসে এসেছিল, যা পুঁতে ফেলা হলেও পরে জোয়ারের ধাক্কায় আংশিকভাবে পুনরায় দৃশ্যমান হয়ে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করছে।

পরিবেশগত প্রভাব ও উদ্বেগ

এই ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজার সৈকতে মৃত প্রাণী ভেসে আসার একটি ধারাবাহিকতার অংশ। এর আগে ছোট আকৃতির কয়েকটি ডলফিন এবং তিন মাস ধরে অসংখ্য মৃত মা কাছিম ভেসে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাগরে পুঁতে রাখা মাছ ধরার জালে আটকা পড়া এই প্রাণীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

সন্ধ্যা পর্যন্ত বন, পরিবেশ ও মৎস্য বিভাগের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে না যাওয়ায় দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা জোরালো হচ্ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন যে, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে পর্যটন শিল্প ও জনস্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।