মৌলভীবাজারে পাখি শিকারীদের নির্মমতা: চোখ সেলাই করা ঘুঘু উদ্ধার
মৌলভীবাজারে চোখ সেলাই করা ঘুঘু উদ্ধার

মৌলভীবাজারে পাখি শিকারীদের নির্মম ফাঁদে আটকা পড়ল ঘুঘু

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাকালুকি হাওর-সংলগ্ন সিংহনাদ-জগতপুর এলাকায় পাখি শিকারীদের নির্মমতা চোখে পড়েছে। দুর্বৃত্তরা জাল পেতে ফাঁদ তৈরি করে একটি ঘুঘুকে আটকে রেখেছিল। আরও ভয়াবহ ব্যাপার হলো, পাখিটির চোখ সুতা দিয়ে সেলাই করে দেওয়া হয়েছিল।

কীভাবে ঘটনা সামনে এলো

হাকালুকি হাওরের উন্নয়নে কর্মরত বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস-নবপল্লব-এর কুলাউড়া কার্যালয়ের মাঠ কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান জানান, ৯ মার্চ তিনি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে নাগুয়া-লরিবাই বিলের পাড়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তাদের সংস্থার উদ্যোগে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা লাগানো হয়েছে।

সিংহনাদ-জগতপুর গ্রাম দিয়ে হাওরে ঢোকার সময় তারা ফাঁকা জমিতে পাশাপাশি দুটি জাল পেতে রাখা দেখতে পান। জালে বন্দী ছিল একটি ঘুঘু। পাশে দুজন যুবক ঘোরাঘুরি করছিলেন। গাড়ি দেখামাত্রই তারা দ্রুত সটকে পড়েন।

পাখিটির করুণ অবস্থা

তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘গাড়ি থামিয়ে আমরা নামি। কাছাকাছি গিয়ে দেখি, শক্ত সুতা দিয়ে ঘুঘুটির পা বেঁধে জালে আটকানো হয়েছে। পাখিটির দুটি ডানা ও লেজের কিছু অংশের পালক ছেঁটে ফেলা হয়েছিল। সবচেয়ে নির্মম ব্যাপার, পাখিটি চোখে দেখতে পারছিল না। সুতা দিয়ে সেলাই করে দেওয়া হয়েছিল দুই চোখ।’

এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে তারা দ্রুত পাখিটিকে মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। তৌহিদুর প্রথমে পাখিটিকে জাল থেকে মুক্ত করেন। এরপর সাবধানে চোখের সেলাই খুলে দেন।

উদ্ধার ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া

পাখিটিকে মুক্ত করার পর মুহিব আলী নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় রাখা হয়। ওই পরিবারের সদস্যদের সেবাযত্নে ধীরে ধীরে পাখিটি সুস্থ হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পাখিটি সম্পূর্ণভাবে সেরে উঠতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।

তৌহিদুর রহমান আরও বলেন, ‘এ ধরনের পাখি শিকার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং নৈতিকতাবিরোধী। আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সহযোগিতা চাই যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।’

হাকালুকি হাওরের বর্তমান অবস্থা

হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি এবং জীববৈচিত্র্যের আধার। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় হাওরের বেশিরভাগ জমি শুকনা অবস্থায় আছে। এই সময়ে পাখি শিকারীদের তৎপরতা বাড়তে দেখা যায়।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, পাখি শিকার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে দুর্বৃত্তরা বিভিন্ন কৌশলে এই অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাওর এলাকায় মাঝেমধ্যেই পাখি শিকারের ঘটনা ঘটে থাকে।

এই ঘটনা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশ সুরক্ষার গুরুত্বকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাওর এলাকায় নজরদারি বাড়ানো এবং স্থানীয় জনসচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।