ঢাকার বাতাসের মানে সামান্য উন্নতি, তবুও বিশ্বের অষ্টম দূষিত শহর
ঢাকার বাতাসে উন্নতি, তবুও অষ্টম দূষিত শহর

ঢাকার বাতাসের মানে সামান্য উন্নতি, তবুও বিশ্বের অষ্টম দূষিত শহর

শীত মৌসুমের সমাপ্তির দিকে ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রায় কিছুটা হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। যদিও বর্তমান বায়ুমান এখনো পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়, তবুও সাম্প্রতিক কয়েকদিনের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল সাড়ে আটটার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান অষ্টম স্থানে রয়েছে।

একিউআই স্কোরে হ্রাস ও বর্তমান অবস্থা

এ সময় শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ছিল ১৬২, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে বিবেচিত। এর আগে মঙ্গলবার একই সময়ে ঢাকার বায়ুমানের স্কোর ছিল ২৪১ এবং বুধবার ছিল ২১৩। সেই হিসাবে দুদিনের ব্যবধানে দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় এবং বৃষ্টিপাত না হওয়ায় রাজধানীতে এখনো দূষণের প্রভাব রয়ে গেছে, যা নাগরিকদের স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকা

এদিন দূষণের তালিকার শীর্ষে রয়েছে হ্যানয়। ভিয়েতনামের এই শহরের বায়ুমান স্কোর ২১৮, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা তাসখান্দ এর স্কোর ১৯৮। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে কাঠমুন্ড, যার স্কোর ১৯১। চতুর্থ অবস্থানে থাকা লাহোরের স্কোর ১৮০। এ ছাড়া ১৭৯ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে দিল্লি, ষষ্ঠ স্থানে ১৭২ স্কোর নিয়ে কলকাতা এবং সপ্তম স্থানে ১৬৬ স্কোর নিয়ে রয়েছে বেইজিং।

বায়ুমান সূচকের ব্যাখ্যা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ

বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, ০ থেকে ৫০ স্কোরকে ভালো ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি, ১০১ থেকে ১৫০ সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। এ অবস্থায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং অন্যদেরও বাইরে কার্যক্রম সীমিত রাখতে বলা হয়। ৩০১ থেকে ৪০০ স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করতে পারে।

ঢাকার বায়ু দূষণে সাম্প্রতিক এই হ্রাস আশার আলো দেখালেও, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য পরিবেশবান্ধব নীতি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টিপাতের অভাব এবং যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন প্রভৃতি কারণ দূষণ মাত্রা বাড়িয়ে তুলছে।