বাগেরহাটে অজগরের পেটে গৃহপালিত ছাগল, উদ্ধার করে বন বিভাগ
সুন্দরবন-সংলগ্ন বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলায় একটি অজগর গৃহপালিত ছাগল গিলে খাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে হৈচৈ পড়ে গেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে উপজেলার রসুলপুর গ্রামের ভোলা নদীর চর থেকে অজগরটিকে উদ্ধার করেছে বন বিভাগের কর্মীরা।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
ভোলা নদীর পশ্চিম পাড়ে সুন্দরবন এবং পূর্ব পাড়ে রসুলপুর গ্রাম অবস্থিত। ওই গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব ফরাজীর একটি ছাগল প্রতিদিনের মতো সকালে ঘাস খেতে ভোলা নদীর চরে যায়। দীর্ঘ সময় পরেও ছাগলটিকে না ফিরতে দেখে পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করে। তখন পাশের ঝোপঝাড়ের মাঝে বিশাল আকৃতির একটি অজগর দেখতে পান স্থানীয়রা।
অজগরটির পেট অস্বাভাবিকভাবে ফোলা ছিল, যা দেখে সবাই ধারণা করে যে সাপটি ওই ছাগলটিকে গিলে খেয়েছে। সাপটি ভালোভাবে নড়াচড়াও করতে পারছিল না, যা ঘটনাকে আরও নাটকীয় করে তোলে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও উদ্ধার কার্যক্রম
খবর পেয়ে কমিউনিটি প্যাট্রল গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং বন বিভাগকে অবহিত করেন। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অজগরটি লম্বায় প্রায় ১৫ ফুট এবং ওজন ছিল ৩৫ কেজি। সিপিজি সদস্য সগির সওদাগর বলেন, 'ছাগল গিলে খাওয়ার পর সাপটি কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অজগরটি দেখতে আশপাশে শত শত মানুষ জড়ো হয়, যা এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি করে।'
ছাগলের মালিক সোহরাব ফরাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'সুন্দরবন থেকে আসা অজগরটি আমার ছাগলটি আস্ত গিলে খেয়েছে। এটি আমার জন্য একটি বড় আর্থিক ক্ষতি, কারণ গৃহপালিত পশুটি পরিবারের আয়ের একটি উৎস ছিল।'
বন বিভাগের পদক্ষেপ
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে দ্রুত অজগরটি উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, 'অজগরটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করার পর আমরা তা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করেছি, যাতে এটি নিরাপদে বেঁচে থাকতে পারে।'
এই ঘটনা সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় বন্যপ্রাণী ও মানুষের সহাবস্থানের চ্যালেঞ্জগুলিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বন উজাড়ের কারণে বন্যপ্রাণীরা বেশি করে জনবসতির দিকে আসছে, যা এমন ঘটনা বাড়িয়ে দিতে পারে।
