সুন্দরবনে হরিণ শিকার: টহল দলের উদ্ধার অভিযানে জবাই করা হরিণ ও ফাঁদ আটক
সুন্দরবনের কেয়াবুনিয়া খাল এলাকায় শিকারিদের ফেলে যাওয়া নৌকা থেকে জবাই করা একটি হরিণ উদ্ধার করেছে বন বিভাগের টহল দল। গতকাল সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটে, যখন টহল দলকে দেখে শিকারিরা নৌকা ফেলে ঘন জঙ্গলের মধ্যে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় হরিণ শিকারের ২০টি ফাঁদ, ২টি দা ও ১টি ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে, যা বন বিভাগের টহল কার্যক্রমের তৎপরতা বাড়ানোর ফল বলে জানানো হয়েছে।
টহল দলের দ্রুত পদক্ষেপ ও শিকারিদের পালিয়ে যাওয়া
কয়রা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজল মজুমদার বর্ণনা করেন, তিনি কয়েকজন বনরক্ষী ও হায়াতখালী টহল ফাঁড়ির সদস্যদের নিয়ে যৌথ টহলে বের হন। কয়রা নদী পেরিয়ে কেয়াবুনিয়া খালে পৌঁছানোর পর তাঁরা দুটি নৌকা আসতে দেখেন। টহল দলকে দেখামাত্র নৌকায় থাকা কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত নৌকা ফেলে বনের ভেতরে পালিয়ে যায়। সজল মজুমদার বলেন, ‘আমরা তাদের পিছু নিয়েছিলাম, কিন্তু তারা ঘন জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে পড়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ফেলে যাওয়া একটি নৌকা তল্লাশি করে জবাই করা হরিণটি উদ্ধার করা হয়। আরেকটি নৌকা থেকে হরিণ শিকারের ফাঁদ ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।’
উদ্ধারকৃত হরিণের অবস্থা ও আদালতের নির্দেশনা
গতকাল রাত আটটার দিকে কয়রা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এলাকায় উদ্ধার করা হরিণটি নিয়ে যাওয়া হয়। আদালত ভবনের একটি পুরোনো কক্ষে হরিণটি রাখা ছিল, যেখানে উপস্থিত এক বনকর্মী জানান, শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে গিয়ে হরিণটির পা ভেঙে থাকতে পারে। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, ‘টহল বাড়ানো হয়েছে বলেই এখন বেশি ফাঁদ উদ্ধার হচ্ছে। অনেক সময় ফাঁদে আটকা পড়া জীবিত হরিণ উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করা হয়। গতকাল উদ্ধার হওয়া জবাই করা হরিণটি আদালতের নির্দেশে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।’
বন বিভাগের লক্ষ্য ও চলমান চ্যালেঞ্জ
বন বিভাগের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন যে, শিকার হওয়ার পর হরিণ উদ্ধার করার চেয়ে শিকার হওয়ার আগেই তাদের রক্ষা করাটাই মূল লক্ষ্য। তবে সুন্দরবনে হরিণ শিকার একটি নিয়মিত সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে, যেখানে শিকারিরা ফাঁদ পাতা ও নৌকা ব্যবহার করে অবৈধ কার্যক্রম চালায়। টহল দলের সক্রিয়তা সত্ত্বেও ঘন জঙ্গল ও দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ শিকারিদের আটকাতে বাধা সৃষ্টি করছে। হাছানুর রহমান যোগ করেন, ‘আমাদের টহল কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে, কিন্তু সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া ফাঁদ ও অস্ত্র দেখিয়ে দেয় যে শিকারিরা এখনও সক্রিয়।’
এই ঘটনা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন বিভাগের চেষ্টা ও চ্যালেঞ্জগুলিকে সামনে নিয়ে আসে, যেখানে স্থানীয় সম্প্রদায়ের সচেতনতা ও কঠোর নজরদারি অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে।



