খাগড়াছড়িতে বনমোরগ অবমুক্ত না করার অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন
বনমোরগ অবমুক্ত না করার অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন

খাগড়াছড়িতে বনমোরগ অবমুক্ত না করার অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন

খাগড়াছড়ি জেলায় বন বিভাগের অভিযানে জব্দ হওয়া একটি বনমোরগ অবমুক্ত না করার অভিযোগের তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা এই তদন্ত কমিটি গঠন করেন, যা জরুরি ভিত্তিতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ পেয়েছে।

তদন্ত কমিটির গঠন ও দায়িত্ব

বন বিভাগের মাটিরাঙ্গা রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. জাভেদুর রহমান সরকারকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন পানছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা ইলিয়াস চৌধুরী এবং খাগড়াছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা এস এম মোশারফ হোসেন। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ফরিদ মিঞা সাংবাদিকদের জানান, কমিটিকে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ

গত বৃহস্পতিবার গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে এক ব্যক্তির কাছ থেকে বনমোরগটি উদ্ধার করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত বনমোরগটি নিকটস্থ বনে অবমুক্ত করার কথা ছিল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার। তবে, জালিয়াপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি বনমোরগটি অবমুক্ত করেননি।

অভিযোগের জবাবে, রেঞ্জ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের একটি ছবি পাঠিয়ে দাবি করেন যে বনমোরগটি অবমুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা এবং বিশেষজ্ঞরা এই দাবি খণ্ডন করেছেন। তাঁদের মতে, ছবিতে দেখা মোরগটি জব্দ হওয়া বনমোরগ নয়, বরং একটি দেশি মোরগ।

বিশেষজ্ঞের মতামত ও কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন যে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠানো ছবির মোরগটি বনমোরগ নয়। এদিকে, রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, পাঠানো ছবিটি আগের বছরের এবং তিনি কেন এটি পাঠানো হয়েছে সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এই ঘটনায় বন বিভাগের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আশা করা হচ্ছে, যা ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়ক হবে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বন বিভাগের ভূমিকা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।