বায়ু দূষণে ঢাকা বিশ্বের চতুর্থ স্থানে, এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ১৮২
বাংলাদেশের জনবহুল রাজধানী ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় চতুর্থ স্থান দখল করেছে। শনিবার সকাল ৯টা ১৩ মিনিটে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) রেকর্ড করা হয়েছে ১৮২, যা বায়ু দূষণের মাত্রাকে 'অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে।
বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকা
বায়ু দূষণ ও বায়ুর মানের শহর র্যাঙ্কিং অনুসারে, ভারতের দিল্লি প্রথম স্থানে রয়েছে একিউআই ২৩৭ নিয়ে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের কিনশাসা, যার একিউআই স্কোর ২০২। তৃতীয় স্থান দখল করেছে পাকিস্তানের লাহোর, যার একিউআই ১৯৮। ঢাকা এই তালিকায় চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে, যা শহরের বাসিন্দাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের শ্রেণিবিভাগ
একিউআই হল দৈনিক বায়ুর মান রিপোর্ট করার একটি সূচক, যা মানুষকে জানায় যে একটি নির্দিষ্ট শহরের বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং এর সাথে সম্পর্কিত স্বাস্থ্য প্রভাবগুলি কী হতে পারে। কণা দূষণের জন্য একিউআই মান ১০১ থেকে ১৫০ হলে বায়ুর মান 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৫০ থেকে ২০০ এর মধ্যে হলে তা 'অস্বাস্থ্যকর' শ্রেণিভুক্ত হয়। ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে হলে 'অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর' বলা হয়, আর ৩০১+ রিডিং 'বিপজ্জনক' হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।
বাংলাদেশে একিউআই পরিমাপের ভিত্তি
বাংলাদেশে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স পাঁচটি দূষণকারী পদার্থের উপর ভিত্তি করে গণনা করা হয়: কণা পদার্থ (পিএম১০ এবং পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২), এবং ওজোন। এই পদার্থগুলি বায়ু দূষণের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং শহরের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী বায়ু দূষণ সমস্যা
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণের সমস্যার সাথে লড়াই করছে। শহরের বায়ুর মান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে এবং বর্ষাকালে কিছুটা উন্নতি হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, নির্মাণ কাজ, যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্প কারখানার নির্গমন এবং অন্যান্য মানবসৃষ্ট কার্যক্রমের কারণে দূষণের মাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই মাত্রার বায়ু দূষণ শহরের বাসিন্দাদের জন্য নানা স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:
- শ্বাসকষ্ট এবং হাঁপানি
- হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি
- চোখ ও গলা জ্বালাপোড়া
- দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের ক্ষতি
ঢাকার বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে পরিবেশবিদরা বলছেন, টেকসই নগর পরিকল্পনা, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিল্প নির্গমন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই সমস্যা মোকাবেলা করা সম্ভব। শহরের বাসিন্দাদেরও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
