শীতলক্ষ্যা নদী দূষণ রোধে হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশ
নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ইটিপি বা তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার ছাড়া পরিচালিত ২০টি শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আদেশ জারি করেন।
রিট আবেদন ও আদালতের পূর্ববর্তী পদক্ষেপ
শীতলক্ষ্যা নদীর পানিদূষণ বন্ধ এবং দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) পক্ষে তিন আইনজীবী ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল একটি রিট আবেদন দাখিল করেন। গত বছরের ৬ মে হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন, যাতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দূষিত পানি ও বর্জ্য নদীতে ফেলতে না পারে সে জন্য মনিটরিং কমিটি গঠন এবং দূষণের মাত্রা নিরূপণ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন ও সম্পূরক আবেদন
আদেশ অনুসারে পরিবেশ অধিদপ্তর গত বছরের ৮ ডিসেম্বর একটি প্রতিবেদন দাখিল করে, যাতে দেখা যায় ইটিপি ছাড়া ২০টি প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এইচআরপিবি সম্পূরক আবেদন দাখিল করে, যাতে ইটিপি ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।
আদালতের শুনানি ও চূড়ান্ত নির্দেশ
আবেদনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ শুনানি করেন, তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। হাইকোর্ট শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ইটিপি ছাড়া পরিচালিত ২০টি শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন।
নির্দেশ বাস্তবায়ন ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা
আদালত একই সঙ্গে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে আগামী ৩০ এপ্রিল কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন। মনজিল মোরসেদ ২০টি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেন, যেগুলো হলো:
- খালেক টেক্সটাইল
- লীনা পেপার মিল
- আরএসকে ডাইং
- খান ব্রাদার্স টেক্সটাইল
- এসআরএস নিড ডাইং
- মেসার্স রুবেল ডাইং
- বাংলাদেশ ডাইং অ্যান্ড প্রসেসিং
- এশিয়ান ফেব্রিক
- জিলানী ডাইং
- গাজীপুর বোর্ড মিলস
- নিউ আলম ডাইং
- মায়ের দোয়া ডাইং
- এম আর ডাইং
- আব্দুর রব ডাইং
- বিসমিল্লা নিড ডাইং
- শিমুল ডাইং
- রাজ্জাক ওয়াশিং
- সোহেল ডাইং
- কর্ণফুলী টেক্সটাইল মিল
- হাজী রাসুল ডাইং
এই পদক্ষেপ শীতলক্ষ্যা নদীর পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা নদী দূষণ রোধে ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
