বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহর ঢাকা, বায়ু মান সূচক ২৫৩
বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহর ঢাকা, বায়ু মান সূচক ২৫৩

বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দূষিত শহর হিসেবে ঢাকার অবস্থান

বাংলাদেশের জনবহুল রাজধানী ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দূষিত শহরের তালিকায় স্থান পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শহরটির বায়ু মান সূচক (একিউআই) রেকর্ড করা হয়েছে ২৫৩। সুইস বিনামূল্যের বাস্তব-সময় বায়ু মান পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম আইকিউএয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মাত্রার বায়ু 'অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হয়েছে, যা গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকির সৃষ্টি করে।

বিশ্বব্যাপী বায়ু মানের অবস্থা

পাকিস্তানের লাহোর শহর এই তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে। অন্যদিকে, ভারতের কলকাতা এবং নেপালের কাঠমান্ডু যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে, যাদের একিউআই রেকর্ড করা হয়েছে ১৯৭ এবং ১৮৫। বিপরীতে, ইন্দোনেশিয়ার বাতাম ও মেদান শহর বিশ্বের সবচেয়ে পরিষ্কার বায়ুর শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে একিউআই রেকর্ড করা হয়েছে শূন্য।

বায়ু মান সূচকের শ্রেণিবিভাগ ও স্বাস্থ্য প্রভাব

একিউআই স্কেল অনুযায়ী, ৫০ থেকে ১০০ পর্যন্ত রিডিং 'মাঝারি' হিসেবে বিবেচিত হয়, যা সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য বায়ু মান নির্দেশ করে, যদিও সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘস্থায়ী বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখা উচিত। ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত একিউআই স্তর 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে চিহ্নিত। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত 'অস্বাস্থ্যকর', ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত 'অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর', এবং ৩০১-এর উপরের রিডিং 'বিপজ্জনক' হিসেবে বিবেচিত হয়, যা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।

দৈনিক বায়ু মান রিপোর্ট করে এমন একিউআই বাসিন্দাদের জানায় বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্য প্রভাবগুলি তুলে ধরে। বাংলাদেশে, একিউআই গণনা করা হয় পাঁচটি প্রধান দূষণকারীর ভিত্তিতে: কণা পদার্থ (পিএম১০ এবং পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২), এবং ওজোন।

ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী বায়ু দূষণ সমস্যা

ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণের সাথে সংগ্রাম করছে। শহরের বায়ু মান সাধারণত শীতকালে খারাপ হয় এবং বর্ষা মৌসুমে উন্নতি লাভ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অনুমান অনুযায়ী, বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় সাত মিলিয়ন মৃত্যুর কারণ হয়, প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুস ক্যান্সার, এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে।

এই পরিস্থিতি শহরের বাসিন্দাদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য। বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত বায়ু মান পর্যবেক্ষণ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন।